নারদকাণ্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মন্ত্রীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে রাজ্যপালের তীব্র সমালোচনায় সরব হলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়। রাজ্যপালকে তিনি 'রক্তচোষা' ও 'পাগল কুকুর' বলে আক্রমণ করেন। তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ চট্টোপাধ্যায় বলেন তাঁর এই গ্রেফতারের বিরুদ্ধে আদালতে যাবে। করোনা মহামারিকালে এভাবে কাউকে গ্রেফতার করা যায় না বলেও দাবি করেন তিনি। 

রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের অনুমতি পত্র নিয়েই সিবিআই-এর আধিকারিরকার গ্রেফতার করেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মন্ত্রীদের। আর সেই কারণেই রাজ্যপালকে একহাত নেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রাজ্যপালের জেলা সফরের বিরুদ্ধে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন বিজেপির পতাকা নিয়ে রাজ্যপাল ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তারপরই তিনি বলেন নারদকাণ্ড ২০১৬ সালের। সেই মামলায় এতদিন পরে এই করোনাকালে কেন গ্রেফতার করা হবে?তিনি মনে করিয়ে দেন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কথা। যেখানে বলা হয়েছে, এই সময় পুলিশ অহেতুক কাউকে আটকে রাখতে পারে না। তারপরেও সিবিআই ও পুলিশ তৃণমূলের চার জনকে গ্রেফতার করেছে বলেও অভিযোগ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিজাম প্যালেসের পর এবার রাজভবনের সামনে বিক্ষোভ, নারদকাণ্ডে গ্রেফতারের প্রতিবাদ তৃণমূলের ...

Cyclone Tauktae: রাতেই আছড়ে পড়তে পারে গুজরাতে, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা প্রধানমন্ত্রীর..

রাজ্যপাল প্রসঙ্গে রীতিমত চড়াসুরেই নিশানা করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'রাজ্যপাল মোদী-অমিত শাহকে কথা দিয়েছিলেন এই রাজ্যে ভোটে বিজেপি জিতবে। কিন্তু জনতার রায় পুরোপুরি তৃণমূলের পক্ষে গেছে। তাতে অস্বস্তিতে বেড়েছে রাজ্যপালের। তাই তিনি পগল কুকুরের মত ঘুরে বেড়াচ্ছেন।' কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এখানেই থেকে থাকেননি। তিনি আরও বলেন ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজস্থান থেকে টিকিট পেতে মরিয়া চেষ্টা করেছেন। আর সেই কারণেই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বতে  সন্তুষ্ট রাখেতে চাইছেন তিনি। বর্তমানে তিনি রক্তচোষা হয়ে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ধৃতদের না মুক্তি দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা বিক্ষোক্ষ চালিয়ে যাবে। 

'আমাকেও গ্রেফতার কর', মোদীর সমালোচনায় একই টুইট রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার ...

এদিন নিজাম প্যালেসের পাসাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান রাজভবনের সামনেও। সেখানেই পুরো ঘটনার জন্য রাজ্যপালই দায়ি করেন তারা। যদিও এই ঘটনার পর রাজ্যপালও হাতে হাত গুটিয়ে বসে থাকেননি। তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন আইন ভাঙবেন না। সংবিধান মেনে চলতেও আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিজাম প্যালেসের ঘটনার জন্য রাজ্যপাল পুলিশকেই দায়ি করেছেন।