প্রত্যক্ষদর্শীরা সংবাদমাধ্য়মের ক্যামেরার সামনে দাবি করছেন, নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে একটি লোহার স্তম্ভে লেগেই সপাটে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ির দরজা। কিন্তু, তারপরও 'পরিকল্পিত হামলা' এবং 'ধাক্কা মারার' অভিযোগ থেকে পিছিয়ে আসছে না তৃণমূল কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। লোহার স্তম্ভে ধাক্কা লাগার কথা তাঁরা মানছেন না। ঘাসফুল শিবিরের যুক্তি, লোহার স্তম্ভে ধাক্কা লাগলে গাড়িটির দরজায় দাগ থাকত। কিন্তু, তৃণমূল নেত্রীর গাড়িতে সেরকম কোনও দাগ নেই।

বুধবার যে গাড়িটির দরজা তাঁর পায়ে চেপে ধরা হয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী, এদিন, তৃণমূল ভবনের বাইরেই সেই সাদা রঙের স্করপিও গাড়িটিকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। সাংবাদিকদের ডেকে তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় গাড়ির সামনের দরজাটি দেখান। সেই দরজায় কোনও লোহার স্তম্ভের সঙ্গে সংঘর্ষ হওয়ার দাগ নেই, একেবারেই অক্ষত রয়েছে।

ফিরহাদ হাকিম ও সৌগত রায় বলেন, মমতা গাড়িটির বনেটের উপর দাঁড়িয়ে মানুষকে সম্ভাষণ জানাচ্ছিলেন। সে ইসময় চার-পাচজন এসে আঘাত করার উদ্দেশ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের উপর গাড়ির দরজাটি সজোরে ঠেলে দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে তাঁদের প্রশ্ন, কেন জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো পরিকল্পনা ছিল না, কেন পুলিশ আধিকারিকরা ছিলেন না সেখানে? এর সঙ্গে সঙ্গে ডিজি ও এজিপি-কে সরানোর কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। আর এইসব ঘটনা পরম্পরা সামনে রেখেই তাঁরা পুরো ঘটনার পিছনে চক্রান্ত রয়েছে দাবি করছেন। তদন্তের দাবি তুলেছেন তাঁরা।

তবে প্রত্যক্ষদর্শী বলে নিজেদের দাবি করছেন, এমন বহু মানুষই দাবি করছেন লোহার স্তম্ভে লেগেই গাড়ির দরজা গিয়ে পড়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাঁ পায়ের উপর। এদিন নির্বাচন কমিশনকে পুলিশের পক্ষ থেকে যে প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে, সেখানেও লোহার স্তম্ভে ধাক্কা লাগার কথা বলে, ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে হয়েছে বলেই দাবি করা হয়েছে 'দ্য প্রিন্ট'এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।