বঙ্গে চলছে তীব্র মেরুকরণের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব। তারমধ্যেই চলছে রমজান মাস। আর এর মধ্যে আবার বুধবার রাম নবমী। গত কয়েক বছর ধরেই বাংলায় রামনবমীর শোভাযাত্রাকে ঘিরে বারে বারে উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্যের পরিবেশ। নষ্ট হয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। আর এবার তো চলছে নির্বাচন। চিন্তা বাড়ছে প্রশাসনের। মঙ্গলবার আবার এই নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে অশান্তির ফাঁদ পাতার অভিযোগ তুললেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন, মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের নির্বাচনী প্রচার সভা থেকে মমতা বলেন, 'কেউ প্ররোচনায় পা দেবেন না, কাউকে পা দিতে দেবেন না। কাল রাম নবমী আছে। আমি সকলকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। শান্তিপূর্ণভাবে পালন করুন। রমজান মাস চলছে, শান্তিপূর্ণভাবে পালন করুন। মনে রাখবেন, এমন কিছু করব না যাতে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা লাগানোর সুযোগ না পায় (বিজেপি)। বিজেপির কিন্তু প্ল্যান আছে। সেই প্ল্যানটাকে আমরা যেন মদত না দিই। আমাদের ঠান্ডা থাকতে হবে এবং বিজেপির প্ল্যানটাকে ভেস্তে দিতে হবে। তার কারণ ইলেকশন ইস ইলেকশন। ইলেকশনটা একটা বড় রাজনৈতিক লড়াই।'

আরও পড়ুন - বঙ্গের ভোট মানে শুধুই হিংসা নয়, গণতন্ত্রের উৎসবও বটে - দেখুন পঞ্চম দফা, ছবিতে ছবিতে

আরও পড়ুন - মোদীকে ঠিক কতবার, কী কী গালি দিয়েছেন মমতা - প্রধানমন্ত্রী নিজেই দিলেন তথ্য

আরও পড়ুন - করোনা আবহে ভোট - মমতার হুঙ্কারেও কমছে না মোদীর সভা, তবে বদলে যাচ্ছে তার চেহারা

মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধেই সুর চড়িয়েছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপির নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, মমতা বিজেপির দিকে আঙুল তুললেও মানুষকে উসকাচ্ছেন তৃণমূল নেতা-নেত্রীরাই। তৃণমূল সুপ্রিমোর ডানহাত বলে উল্লেখ করে, তিনি ফিরহাদ হাকিমের ভাইরাল হওয়া ভিডিওর প্রসঙ্গ তোলেন। জয়প্রকাশের অভিযোগ, যে কদর্য ভাষায় মানুষকে খেপাচ্ছেন তৃণমূল নেতারা, তারপর আর বিজেপির বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ করাটা তৃণমূলের শোভা পায় না। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের দলের নেতাদেরই সংযত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর দাবি যদি রোজা-রামনবমীকে কেন্দ্র করে যদি বাংলায় কোনও অশান্তি দেখা দেয়, তার দায় তৃণমূল কংগ্রেস দলেরই হবে, এমনটাই দাবি করেছেন বিজেপি নেতা।