৩০ বছর ধরে বাম আদর্শকে শিরোধার্য করেছিলেন তিনি। তবে গত কয়েকদিন ধরেই বেসুরো ছিলেন তিনি। শুক্রবার সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে একেবারে বিপরীতধর্মী রাজনৈতিক দল বিজেপি-তে যোগদান করলেন শিলিগুড়ি জেলার 'দাপুটে সিপিএম নেতা' হিসাবে পরিচিত শঙ্কর ঘোষ। এদিন শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হোটেলে বিজেপির রাজ্য পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র হাত থেকে বিজেপির পতাকা তুলে নেন তিনি।

যোগদানের পর শঙ্কর ঘোষ দাবি করেন, কোনও পদের লোভে নয়, নিজেকে মানুষের কাজে বিলিয়ে দিতেই তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, বাম দলগুলি এখন ভোট রাজনীতির নামে নীতিভ্রষ্ট হয়ে জোতদার-জমিদারদের দল, পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি করে এমন দলগুলির সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে। দলীয় অনুশাসনের দোহাই দিয়ে কর্মীদের মুখ বন্ধ রাখা হয়েছে। এই নিয়েনীতির সঙ্গে মানসিক লড়াইয়ে খুবই যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন। সেইসময়, সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বিজেপির সাংসদ রাজু বিস্তা।

তবে, বিজেপিকে, তাঁর পুরোনো দল সিপিএম-এর একেবারে বিপরীতধর্মী বলতে নারাজ শঙ্কর। তাঁর দাবি ক্যাডারভিত্তিক দুটটি দলের - একটি আন্তর্জাতিকতাবাদী, অপরটি জাতীয়তাবাদী। কিন্তু, দুই দলেরই লক্ষ্য গরীব মানুষের কল্যান। সিপিএম-এর পক্ষে এখন সেই কাজ করা সম্ভব নয়। নরেন্দ্র মোদীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি সেই কাজ করতে পারে। গত ৩০ বছর ধরে সিপিএম-এর হয়ে যেভাবে মানুষের জন্য কাজ করে এসেছেন, নতুন দলেও তাই করবেন।

অন্যদিকে বিদেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, শঙ্কর গরীবদের জন্য কাজ করতে চায়। যোগদানের আগে বলেছিলেন, বিজেপি সূযোগ দিলে, দলের হয়ে কাজ করে দেখাবো। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গরীবদের জন্য বহু প্রকল্প গ্রহন করেছেন। আমার মনে হয় শঙ্কর সেই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়িত করতে পারবে।

শঙ্কর ঘোষের পদত্যাগ নিয়ে গত বেশ কয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। এদিন তাঁর পদত্যাগ বিষয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বামফ্রন্ট প্রার্থী অশোক ভট্টাচার্য বলেন, 'এই সব বিষয়ে যত কম বলা যায় ততই মঙ্গল'। তিনি আরও বলেন, সিপিএম শঙ্কর ঘোষকে ইতিমধ্য়েই বহিস্কার করেছে, তাই তাঁর বিষয়ে তিনি কোনও কথা বলতে চান না। অথচ, এই শঙ্কর ঘোষকে, অশোক ভট্টাচার্যের সহচর হিসাবেই চিনত জেলার রাজনৈতিক মহল।