শমিকা মাইতি, প্রতিনিধি, বাংলায় ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। একে-অপরকে বিঁধে জোরকদমে প্রচার শুরু করে দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। দুর্নীতি, অনুপ্রবেশের মতো বিষয় ছাড়াও তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপির বড় অভিযোগ, দু’টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে রাজ্যের মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই দু’টি প্রকল্প হল আয়ুষ্মান ভারত ও পিএম কিসান যোজনা।  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এই রাজ্যে কেন্দ্রের আয়ুষ্মান প্রকল্প চালু করতে দেননি বলে বিজেপি নেতাদের অভিযোগ। সেই অভিযোগ যে একেবারে ভিত্তিহীন, এমনটা নয়। ‘আয়ুষ্মান ভারত’ থেকে রাজ্যকে সরিয়ে নেওয়ার সময় মমতা প্রকাশ্যেই জানিয়ে ছিলেন, স্বাস্থ্যবিমার জন্য রাজ্য ৮০ শতাংশ টাকা দেয়, কেন্দ্র ২০ শতাংশ দেয়। তারপরেও কেন্দ্র এমন ভাবে প্রচার করছিল যেন এটা পুরোপুরি কেন্দ্রের টাকায় হচ্ছে। যে প্রকল্পে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথ ভাবে আর্থিক দায়িত্ব বহন করছে, তা নিয়ে কারও একক প্রচার চলতে পারে না। অর্থাৎ মমতার আপত্তি বিজেপির প্রচারে, প্রকল্পের উপযোগিতায় নয়। 
২০১৭ সালে ‘গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ স্টাডি’তে ভারতের যে রোগগুলির প্রকোপ সবচেয়ে বেশি তার একটা তালিকা করা হয়। দেখা যায়, চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রতি বছর ছয় কোটিরও বেশি মানুষ এই দেশে সর্বস্বান্ত হন। এই প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পটির ঘোষণা করে বিজেপি সরকার। এই প্রকল্পের ফলে ১০ কোটি পরিবারকে (অথবা ৫০ কোটি জনগণ) স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়। প্রতি বছর চিকিৎসা খাতে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবে উপভোক্তারা। ভারতের তালিকাভুক্ত সমস্ত হাসপাতালে এই সুবিধা পাওয়া যাবে রাজ্য নির্বিশেষে। ভারতের ২৮টি রাজ্য ও ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ২০টি রাজ্য এই প্রকল্পে যুক্ত হয় প্রাথমিক ভাবে। মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু নিজেদের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প থাকায় প্রথমে এই উদ্যোগে সামিল হয়নি। পরে অবশ্য তারা আয়ুষ্মান ভারতে যোগ দেয় এই শর্তে যে তাদের চালু প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করে হবে কেন্দ্রের প্রকল্পকে। কেরালাও একই শর্তে যোগ দেয়। পশ্চিমবঙ্গ আর তেলেঙ্গানাও এই শর্তে যোগ দিয়েছিল প্রথমে। পরে তারা বেরিয়ে আসে।       
নবান্ন সূত্রে জানা গিযেছে, মমতা চেয়েছিলেন ২০১৭ সালে বাংলায় তৃণমূলের সরকার যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু করেছে, সেই নামেই এই রাজ্যে আয়ুষ্মান প্রকল্পটি পরিচিত হোক। প্রাথমিক ভাবে এতে রাজিও ছিল কেন্দ্র। কিন্তু পরে এই প্রকল্পের জন্য বাড়ি বাড়ি যে চিঠি ও কার্ড যায়, তাতে স্বাস্থ্যসাথীর উল্লেখ ছিল না। তাই কয়েক মাসের মধ্যেই এই প্রকল্প থেকে রাজ্যকে সরিয়ে নেন মমতা। তৃণমূলের দাবি, এই রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে একই সুবিধা মিলছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পটির কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই।

১৫ মাস পর নতুন বিমানে বিদেশ সফর, বাংলাদেশে গিয়ে বাংলাতে বার্তা মোদীর ...

প্রথম দফার ভোটে নজরে জঙ্গলমহল, বিজেপি তৃণমূলের লড়াইয়ে জমি কি ফিরে পাবে বামেরা ...
কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনের মতে, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পটি দেশব্যাপী কার্যকরী হওয়ায় এর সুবিধা অনেক বেশি। প্রকল্পটি এই রাজ্যে চালু না থাকার জন্য ভিন্‌ রাজ্য থেকে কেউ এখানে চিকিৎসা করতে এলে প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না। একই ভাবে এই রাজ্যের মানুষ ভারতের অন্যত্র চিকিৎসা করাতে গিয়ে এই প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাছাড়া কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যুক্ত হলে রাজ্যের খরচাও কমবে। 
২০২১-র বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন বিজেপি নেতারা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কথায়, মমতা নিজের রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য রাজ্যের মানুষকে বলির কাঠগড়ায় চড়াচ্ছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই রাজ্যে ভোটপ্রচারে এসে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ক্ষমতায় এলেই বিজেপি সবার আগে আয়ুষ্মান ভারত এই রাজ্যে চালু করবে।