বর্ধমানের দেওয়ানদিঘিতে এক আদিবাসী বধূর দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবার গণধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ তোলার পর পুলিশ তদন্তে নেমে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখিয়েছে।
বারুইপুরের পর গণধর্ষণ কাণ্ড বর্ধমানে। আদিবাসী বধূর মৃত্যু ঘিরে শোরগোল অবস্থা বর্ধমানে। বর্ধমানে দেওয়ানদিঘিতে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে ২। গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সেখানে। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে। শাস্তির দাবি করেছে ভারত জাকাত মাঝি পরগনার প্রতিনিধিরা।

জানা গিয়েছে, সোমবার দেওয়ানদিঘির ক্যানেলপাড় সংলগ্ন মাঠ থেকে এক আদিবাসী বধূর দেহ উদ্ধার হয়। দেহ উদ্ধারের পরপরই পরিবার অভিযোগ করে, তাঁকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হতে পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের বর্ধমান সিজেএম আদালতে হাজির করানো হয়েছে। বিচারক তাদের তিন দিন পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, যে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের নাম শেখ আজিজুল এবং ভদাই শেখ। বুধবার ভোরে ক্ষেতিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আজিজুলকে গ্রেফতার করা হয়। বীরভূমের নানুর এলাকায় গা ঢাকা দিয়েছিল ভদাই শেখ। সেখান থেকে তাঁকে পকড়াও করা হয়।
জানা গিয়েছে, ওই বধূ দেড় মাস ধরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি থেকে বের হন। আর ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাননি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে কিছু দূরে একটি মাঠে তাঁর নিথর দেহ মেলে। শরীরে বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরিবারের অভিযোগ, বধূকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে গণধর্ষণ, খুন ও প্রমাণ লোপাট সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বেশ কিছু ধারায় মামলা রুজু হয়। বুধবার সকালেই পাঁচ সদস্যের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞের একটি দল ঘটনাস্থনে পৌঁছায় নমুনা সংগ্রহ করতে। বর্তমানে ময়না তদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার দেওয়ানদিঘি থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয়রা। সিপিএম-র পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি দেওয়ানদিঘিতে। সোমবার দেওয়ানদিঘির ক্যানেলপাড় সংলগ্ন মাঠ থেকে এক আদিবাসী বধূর দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ তাঁকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে।


