ভারতীয় সেনা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মহিলাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল আদালত। কৃষ্ণনগর আদালতের বিচারক দিব্যেন্দু দাস বুধবার এই নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগ, একাধিক বার সমন পাঠানো হলেও আদালতে হাজির হননি তৃণমূল সাংসদ।

ভারতীয় সেনা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মহিলাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল আদালত। কৃষ্ণনগর আদালতের বিচারক দিব্যেন্দু দাস বুধবার এই নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগ, একাধিক বার সমন পাঠানো হলেও আদালতে হাজির হননি তৃণমূল সাংসদ। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে জারি করা এই গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার রিপোর্ট যেন ২৮ আগস্টের মধ্যে আদালতে জমা দেওয়া হয়।

আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, "এই আদালতের নির্দেশ বারবার অমান্য করার ঘটনা... আদালতের আদেশ পালনের ক্ষেত্রে অভিযুক্তের উদাসীন মনোভাবকেই তুলে ধরে। তাই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা ছাড়া আদালতের সামনে আর কোনও বিকল্প খোলা নেই।" বিচারক তাঁর আদেশে উল্লেখ করেন যে, মহুয়া মৈত্রের আইনজীবী জানিয়েছেন তিনি কোনও সময়েই আদালতে হাজির হবেন না, কারণ আদালতের প্রতি তাঁর "কোনও সম্মান নেই"। সাংসদের আইনজীবী আদালতের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, তিনি যদি আদালতে হাজির হন তবে আদালতের চত্বরের বাইরে তাঁকে হেনস্থার মুখে পড়তে হতে পারে।

কী অভিযোগ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে?

কৃষ্ণনগরের নাজিরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা চয়ন নন্দী মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলাকারীর আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাসের দাবি, ভারতীয় সেনা ও জওয়ান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মহিলাদের তুলসীমালা, বোরখা ও হিজাব পরানো নিয়ে মহুয়ার বিভিন্ন মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। আইনজীবীর দাবি, মামলায় হাজিরার জন্য মহুয়া মৈত্রকে একাধিক বার সমন পাঠানো হয়েছিল। তাঁকে কৃষ্ণনগর আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি কোনও তারিখেই আদালতে উপস্থিত হননি।

কোন কোন ধারায় মামলা?

মামলাকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় নাগরিক সংহিতা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। নারীর শালীনতা ক্ষুণ্ণ করা, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ উস্কে দেওয়া, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত, ভয় দেখানো এবং ঘৃণাভাষণের মতো অভিযোগও মামলায় রয়েছে। মামলাকারীর আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, সশরীরে হাজিরার শেষ দিনেও মহুয়া আদালতে না আসায় বিচারক দিব্যেন্দু দাস তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

এর আগে হোগলবেড়িয়া থানায় হাজিরা

এর আগে অন্য একটি মামলায় আদালতের নির্দেশে নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানায় হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। পরে তিনি কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউসে রাত কাটান। অভিযোগ, সেখানেই রাতে তাঁকে হেনস্থার মুখে পড়তে হয়। প্রশাসনের তরফে তাঁকে সার্কিট হাউস ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন সাংসদ। সেই সময় বাইরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা বিক্ষোভ দেখান। ঘটনার পর সার্কিট হাউস থেকেই সমাজমাধ্যমে একাধিক ভিডিয়ো প্রকাশ করে নিজের বক্তব্য জানান মহুয়া। পরে বিষয়টি নিয়ে লোকসভার স্পিকারকেও চিঠি দেন তিনি। মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে জারি হওয়া এই গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে আদালতের নির্দেশের পর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর।