রাজ্য মন্ত্রিসভা ওবিসি (OBC) তালিকা প্রসঙ্গে একটি বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওবিসিদের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে, শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওবিসি তালিকা সংশোধনের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
রাজ্য মন্ত্রিসভা ওবিসি (OBC) তালিকা প্রসঙ্গে একটি বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওবিসিদের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে, শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওবিসি তালিকা সংশোধনের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন যে, ওবিসি তালিকাটি পুনর্বিবেচনা করা হবে।

কী বললেন অগ্নিমিত্রা?
সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে অগ্নিমিত্রা বেশ কিছু সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ চাকরি ও পদগুলিতে 'অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি' বা ওবিসিদের জন্য যে সংরক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে, তা পুনর্বিবেচনা করা হবে। রাজ্য সরকার ওবিসি তালিকা থেকে 'উপ-শ্রেণিবিন্যাস' (sub-categorization) প্রথাটি বিলুপ্ত করে তালিকাটি সংশোধন করবে। মন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ যে নির্দেশা জারি করেছিল, সেই নির্দেশ মেনেই এই তালিকা সংশোধন করা হবে। মন্ত্রী আরও জানান যে, হাইকোর্টের নির্দেশে যেসব গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সমস্ত গোষ্ঠীকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্ত চাকরি এবং সরকারি পদে অন্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য সংরক্ষণের শতকরা হার, রাজ্য তালিকাভুক্ত অন্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকা পুনর্বিবেচনা এবং উপ শ্রেণিবিভাগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভায়। নতুন করে এনকোয়ারি হবে। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যে গোষ্ঠীগুলিকে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
কলকাতা হাইকোর্ট কী নির্দেশ দিয়েছিল?
বাম আমলের শেষ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস আমলের শুরুর দিক পর্যন্ত, রাজ্য সরকার মোট ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি) হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ২০২৪ সালে কলকাতা হাইকোর্ট সেই সিদ্ধান্তটি খারিজ করে দেয়। এরপর তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার হাইকোর্টের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করে। আদালত তার রায়ে যুক্তি দেয় যে, এই সমস্ত সম্প্রদায়কে মূলত ধর্মের ভিত্তিতেই ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি) হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে এযাবৎ জারি করা প্রায় ৫ লক্ষ ওবিসি শংসাপত্র বাতিল হয়ে যায়।
এদিকে আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে বেশ কয়েকটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে সপ্তম বেতম কমিশন গঠন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনা চালু, মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে ফ্রিতে যাতায়াত। এছাড়াও, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীনস্ত ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে প্রদত্ত সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধ হবে। এই মাসে চলবে। পরের মাস থেকে এটা বন্ধ করা হচ্ছে।


