স্রেফ হাত ধোয়াই নয়, স্বয়ংক্রিয় স্যানিটাইজার মেশিনে জীবাণুমুক্ত হবে শরীরও! অভিনব কীর্তিতে তাক লাগিয়ে দিলেন উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের যুবক। তাঁর দাবি, ওই মেশিন যদি ব্যবহার করা হয়, তাহলে অতি সহজেই শনাক্ত করা যাবে করোনা আক্রান্তকেও।

আরও পড়ুন: নববর্ষের উপহারের মূল্য করোনা ত্রাণে, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখল ন'বছরের ত্রিজিতা

রায়গঞ্জ থেকে দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিমি। উত্তর দিনাজপুর জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম বাজিতপুর। এই গ্রামেই থাকেন বাপ্পা রায়। পেশায় রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী। তবে খুব বেশি দূর পড়াশোনা করেননি তিনি, পেরোননি স্কুলের গণ্ডিও। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, পুঁথিগত বিদ্যায় কোনওদিনই আগ্রহ ছিল না বাপ্পার, বরং বৈদ্যুতিন সামগ্রী নিয়ে হাতকলমে কাজ করার ঝোঁকই বেশি তাঁর। বাড়িতে ইলেকট্রিকের যাবতীয় কাজ করেন বাপ্পাই।



আরও পড়ুন: করোনা রোগীর দেহ ভেবে অন্যের অন্ত্যেষ্টি,গোল বাধল আরজিকর-এ

আরও পড়ুন: পয়লা বৈশাখে মমতার মিষ্টি উপহার, বুধবার রাজ্যে লকডাউন সফলে আধা সেনার পক্ষে সওয়াল রাজ্যপালের

করোনা সতর্কতায় এখন লকডাউন চলছে রাজ্যে। সংক্রমণ থেকে বাঁচতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। স্যানিটাইজার দিয়ে বারবার হাত ধুচ্ছেন অনেকেই। কিন্তু শরীরকে কীভাবে জীবাণুমুক্ত রাখা সম্ভব? উদ্ভাবনী শক্তির জোরে সমস্যার সমাধান করে ফেলেছেন বাপ্পা। স্বয়ংক্রিয় স্যানিটাউজার মেশিন বানিয়েছেন তিনি! স্রেফ একবার বাথরুমে ঢোকার অপেক্ষা, তারপর ওই মেশিনে মাথা ও পা পর্যন্ত জীবাণুমুক্ত হয়ে যাবেন আপনি। এমনকী, 'স্যানিটাউজড' হয়ে যাবে মোবাইলও।  



অত্যাধুনিক এই ওয়াশরুম ও স্যানিটাইজার মেশিন তৈরি করতে খরচ হয়েছে চার হাজার টাকা। মুখ্যমন্ত্রী বা জেলা প্রশাসন যদি আর্থিক সাহায্য করে, তাহলে প্রযুক্তির সাহায্য ব্যবস্থাটিকে আরও উন্নত করে তোলা যাবে বলে জানিয়েছেন বাপ্পা রায়।  তিনি বলেন, 'করোনা মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী দিনরাত এক করে কাজ করছেন। তাঁদের দেখে কর্তব্যের তাগিদেই এই যন্ত্রটি বানিয়েছি। কোনও জনবহুল এলাকায় যদি যন্ত্র লাগানো হয়, তাহলে রাস্তায় যাঁরা বেরোচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে থেকে করোনা আক্রান্তকে সহজে শনাক্ত করা যাবে।'