পূর্ব রেল সূত্রে খবর, হকার উচ্ছেদের পর প্ল্যাটফর্মে ভিড় কমাতে আর যাত্রীদের সস্তায় খাবার দিতে "ভ্রাম্যমাণ ফুড স্টল" বা Mobile Food Cart প্রকল্প শুরু হচ্ছে। প্রথম ফেজে শিয়ালদহ, হাওড়া, কলকাতা স্টেশন। 

শিয়ালদহ স্টেশন। ট্রেন ১৫ মিনিট লেট। পেটে ছুঁচো ডাকছে। পাশের হকার "দাদা গরম কচুরি" বলে ডাকছে, কিন্তু দাম জিজ্ঞেস করতে ভয় লাগছে। এই দৃশ্য এবার বদলাবে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

রেল দপ্তর এবার হকার তাড়িয়ে "ভ্রাম্যমাণ ফুড স্টল" নামাচ্ছে প্ল্যাটফর্মে। নাম "Food on Track"। দেখতে আইসক্রিম ভ্যানের মতো, কিন্তু ভেতরে মিনি কিচেন। সকাল ৬টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ঘুরবে প্ল্যাটফর্মে।

কী কী পাবে আর দাম কত? রেট চার্ট ফাঁস:

সকালের টিফিন: ৫ টাকায় লিকার চা, ১০ টাকায় দুধ চা, ২০ টাকায় ৪ পিস কচুরি + আলুর তরকারি, ২৫ টাকায় রুটি-তরকারি। দুপুর-রাতের খাবার: ৫০ টাকায় চিকেন বিরিয়ানি, ৪০ টাকায় ভেজ বিরিয়ানি, ৩৫ টাকায় ভাত-ডাল-আলুভাজা থালি। স্ন্যাকস: ৩০ টাকায় এগ রোল, ৪০ টাকায় চিকেন রোল, ৩০ টাকায় চাউমিন, ২০ টাকায় সিঙ্গারা। মিষ্টি: ১০ টাকায় ল্যাংচা, ১৫ টাকায় রসগোল্লা।

মানে বাইরের দোকানের থেকে ২০-৩০% সস্তা। কারণ রেল সাবসিডি দিচ্ছে + ভাড়া নিচ্ছে না।

৩টে বড় বদল আসছে যাত্রীদের জন্য:

১. হকারমুক্ত, কিন্তু খাবার আছে হকার উচ্ছেদ নিয়ে ঝামেলা হচ্ছিল। এবার হকাররাই লাইসেন্স নিয়ে এই ভ্যান চালাবে। ট্রেনিং, ইউনিফর্ম, স্বাস্থ্য কার্ড সব রেল দেবে। মানে "হকারও বাঁচলো, যাত্রীও বাঁচলো"।

২. পরিষ্কার + সেফটি ফার্স্ট প্রতিটা ভ্যানে FSSAI লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। রোজ সকালে ডাক্তার চেক করবে। রান্না হবে মিনারেল ওয়াটারে। ভ্যানের ভেতর CCTV। খাবারের দাম লেখা থাকবে বড় করে - "দাদা কত?" বলে দর করতে হবে না।

৩. ক্যাশ লাগবে না UPI, কার্ড, রেলের UTS অ্যাপ - সব চলবে। ট্রেন ধরার তাড়ায় খুচরো খোঁজার ঝামেলা শেষ। QR কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট, বিল WhatsApp-এ চলে আসবে।

কোথায় কোথায় শুরু হচ্ছে প্রথমে? ফেজ ১: শিয়ালদহ মেইন, হাওড়া নিউ কমপ্লেক্স, কলকাতা স্টেশন। প্রতিটা স্টেশনে ১০-১৫টা ভ্যান। ফেজ ২: দমদম, সোনারপুর, বর্ধমান, খড়গপুর। টার্গেট: ২০২৬ সালের পুজোর আগে কলকাতার সব বড় স্টেশনে।

রেলের অফিসার কী বলছেন? পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র বলছেন, "হকার উচ্ছেদ করে প্ল্যাটফর্ম ফাঁকা করলে যাত্রী অসুবিধায় পড়বে। তাই বিকল্প দিচ্ছি। ভ্যানগুলো চলমান থাকবে, এক জায়গায় দাঁড়িয়ে ভিড় করবে না। ট্রেন এলেই সরে যাবে।"

কিন্তু সমস্যা কোথায়? পুরোনো হকাররা বলছে "ভ্যানের ভাড়া ৫০ টাকা মাসে, ওটা তুলতে পারবো তো?" আর যাত্রীদের ভয় - "সরকারি খাবার মানে স্বাদ হবে তো?"

উত্তর: ট্রায়াল রানে শিয়ালদহ ৯ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যে ভ্যান নেমেছিল, সেখানকার চিকেন বিরিয়ানি ১ ঘণ্টায় শেষ। টেস্ট নিয়ে অভিযোগ নেই।

শেষ কথা: কলকাতা মানেই "পেটুক শহর"। ট্রেন ধরতে এসে স্টেশনের ঘুগনি না খেলে ট্রিপ ইনকমপ্লিট। এবার সেই ঘুগনি পাবে লাইসেন্স নিয়ে, পরিষ্কার তেলে, ফিক্সড দামে। হকারও বাঁচবে, পেটও বাঁচবে।