তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে বাংলায় বিজেপির 'আসল তাস' বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, কমিশন বিজেপির নির্দেশ মেনে চলে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিশানা করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
'নির্বাচন কমিশনই বিজেপির আসল তাস': অভিষেক
বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে (ECI) আক্রমণ করলেন। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) 'আসল তাস' আসলে নির্বাচন কমিশনই। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ তিনি লেখেন, "আপনারা যদি ভাবেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ বা যোগী আদিত্যনাথ বাংলায় বিজেপির তুরুপের তাস, তাহলে ভুল করছেন। আসল তুরুপের তাস হলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, যিনি পর্দার আড়াল থেকে বিজেপির হয়ে লড়ছেন। বিজেপি যা বলছে, নির্বাচন কমিশন সেটাই অক্ষরে অক্ষরে পালন করছে।"
কেন্দ্রীয় বাহিনী তৃণমূলকে নিশানা করছে, অভিযোগ অভিষেকের
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে এমনভাবে মোতায়েন করা হয়েছে যাতে তারা তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বেছে বেছে নিশানা করতে পারে। তিনি যোগ করেন, "শয়ে শয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোম্পানি বাংলায় পাঠানো হয়েছে, অথচ এদের পহেলগাম, দিল্লি, মণিপুর বা নয়ডার মতো জায়গায় বেশি প্রয়োজন ছিল। এখন তাদের নির্দিষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের, এমনকি আমার পরিবারকেও নিশানা করার জন্য।"
বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
এরপরই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস দেখিয়ে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন অভিষেক। তিনি লেখেন, "যা খুশি করুন। যাকে খুশি নিশানা করুন। কিন্তু মনে রাখবেন, বাংলায় আপনাদের মেয়াদ আর মাত্র ১৯ দিনের। যে গুজরাটের বাবুরা আজ আমাদের কর্মীদের ঘরে থাকার হুমকি দিচ্ছেন, ভোটের ফলের পর এক ঘণ্টার জন্যও তাঁদের বাংলায় দেখা যাবে না। এটা হুমকি নয়, এটা চ্যালেঞ্জ।"
এর আগে মঙ্গলবার, আই-প্যাকের (I-PAC) সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারি নিয়েও অভিষেক বিজেপিকে আক্রমণ করেছিলেন। দলের কর্মীদের সঙ্গে এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে তিনি বলেন, "বিজেপি এজেন্সি ব্যবহার করে আমাদের হুমকি দিচ্ছে, কিন্তু এসব আমাদের আরও শক্তিশালী করবে।"
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপট
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন দুটি দফায় ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল ২১৩টি আসন পেয়ে বিপুল জয় পেয়েছিল। তবে বিজেপিও ৭৭টি আসন জিতে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসে, যা এবারের লড়াইকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।


