- Home
- West Bengal
- Kolkata
- হলফনামায় ‘কিছুই নেই’, তবু কোটিপতি! অভিষেক ব্যানার্জির সম্পত্তির আসল হিসেব কোথায়? প্রশ্ন বিজেপির
হলফনামায় ‘কিছুই নেই’, তবু কোটিপতি! অভিষেক ব্যানার্জির সম্পত্তির আসল হিসেব কোথায়? প্রশ্ন বিজেপির
কাগজে-কলমে তিনি ‘সাদামাটা’ সম্পত্তির মালিক। কিন্তু বাস্তব জীবনের ছবি যেন অন্য গল্প বলছে—এই দ্বৈততার কেন্দ্রেই এখন রাজনৈতিক ঝড়ের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানেই শুরু বিতর্কের। “নেই” আর “আছে”-র ফারাক

কাগজে-কলমে তিনি ‘সাদামাটা’ সম্পত্তির মালিক। কিন্তু বাস্তব জীবনের ছবি যেন অন্য গল্প বলছে—এই দ্বৈততার কেন্দ্রেই এখন রাজনৈতিক ঝড়ের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৪ সালের নির্বাচনী হলফনামা বলছে, তাঁর মোট সম্পত্তি প্রায় ২.৩৩ কোটি টাকা।
আশ্চর্যের বিষয়, সেখানে তাঁর নামে কোনও জমি, বাড়ি বা গাড়ির উল্লেখ নেই। সব মিলিয়ে অস্থাবর সম্পত্তিই তাঁর মূল সম্পদ—ব্যাংক জমা, নগদ টাকা, বিমা এবং সামান্য গয়না। কিন্তু এখানেই শুরু বিতর্কের। “নেই” আর “আছে”-র ফারাক
বিরোধীদের প্রধান অভিযোগ—
কাগজে নেই, কিন্তু বাস্তবে আছে
ঘোষণায় নেই, কিন্তু ব্যবহারে রয়েছে
বিদেশ সফর, ইউরোপের দেশগুলিতে যাতায়াত, চার্টার্ড ফ্লাইটে ভ্রমণ—এই সমস্ত বিষয় রাজনৈতিক আক্রমণের কেন্দ্রে। প্রশ্ন উঠছে, যদি কোনও স্থাবর সম্পত্তিই না থাকে, তাহলে এই জীবনযাত্রার আর্থিক ভিত্তি কোথায়?
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে লড়ার জন্য হলফনামা জমা দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তাঁর সর্বশেষ হলফনামা অনুযায়ী,
অস্থাবর সম্পত্তির বিস্তারিত তথ্য:
হলফনামা অনুযায়ী, অভিষেকের ব্যক্তিগত অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ২৬ লক্ষ ২০ হাজার ২০৪ টাকা। এর মধ্যে তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ৭ লক্ষ ৭৩ হাজার ৩৩৫ টাকা। পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তাঁর জমা অর্থের পরিমাণ ৮৫ লক্ষ ৪৩ হাজার ৯০৮ টাকা। এছাড়া তাঁর নামে তিনটি জীবনবিমা রয়েছে যার মোট মূল্য ৩১ লক্ষ টাকা।
সোনার গয়নার ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, গত পাঁচ বছরে তাঁর সোনার পরিমাণে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ২০১৯ সালের মতো বর্তমানেও তাঁর কাছে ৩০ গ্রাম সোনা রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য ১ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬২০ টাকা এবং ৩,৩৪০ টাকা মূল্যের ৪০ গ্রাম রুপো রয়েছে। তবে সম্পত্তির পাশাপাশি তাঁর ওপর ৩৬ লক্ষ টাকার ঋণের বোঝাও রয়েছে।
বার্ষিক আয় ও পারিবারিক সম্পত্তি:
২০২২-২৩ অর্থবর্ষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্ষিক আয় ছিল ৮২ লক্ষ ৫৮ হাজার ৩৬০ টাকা। তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৭৮ লক্ষ ৭০ হাজার ৩৮২ টাকা। রুজিরার কাছে প্রায় ৪৫.৭০ লক্ষ টাকার সোনা ও রুপো এবং ৩ লক্ষ টাকার ছবি রয়েছে। অভিষেক দম্পতির দুই সন্তানের নামেও মোট ২৭ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকার বেশি অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে।
যদিও তৃণমূলের বক্তব্য, ব্যক্তিগত খরচ, পারিবারিক সম্পদ বা বৈধ উপার্জনের মাধ্যমেই এই জীবনযাপন সম্ভব—এবং সবই আইনসিদ্ধ।
সম্পত্তি বৃদ্ধির ধাঁধা
২০১৯ সালে ঘোষিত সম্পত্তি ছিল প্রায় ১.৩৭ কোটি টাকা।
২০২৪-এ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৩৩ কোটিতে।
অর্থাৎ, পাঁচ বছরে প্রায় ১ কোটি টাকার বৃদ্ধি।
এই বৃদ্ধিকে ঘিরেই বিজেপির প্রশ্ন—
এই বৃদ্ধি কি শুধুই বৈধ আয়ের ফল?
না কি এর পিছনে অন্য কোনও উৎস রয়েছে?
আয় বনাম জীবনযাত্রা
হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বার্ষিক আয় কখনও ৮০ লক্ষ, কখনও ১ কোটির বেশি।
কিন্তু বিরোধীদের প্রশ্ন—
এই আয়ে কি নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণ সম্ভব?
চার্টার্ড ফ্লাইট বা বিদেশে চিকিৎসার খরচ কীভাবে বহন করা হয়?
এখানেই ‘declared income’ এবং ‘visible lifestyle’-এর মধ্যে ফারাক নিয়ে তর্ক তুঙ্গে।
পরিবারের সম্পত্তি: অদৃশ্য অংশ?
এই বিতর্কে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—পরিবারের সম্পত্তি
স্ত্রীর নামে উল্লেখযোগ্য অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। গয়নার মূল্যই কয়েক লক্ষ টাকার। বিরোধীদের দাবি,
“নিজের নামে না থাকলেই কি দায় এড়ানো যায়?”
যদিও আইনের দৃষ্টিতে, পৃথক ব্যক্তির সম্পত্তি আলাদা হিসেবেই ধরা হয়—তবুও রাজনৈতিক প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২.৩৩ কোটি টাকা। তবে সেখানে তাঁর নামে কোনও স্থাবর সম্পত্তি—অর্থাৎ জমি, বাড়ি বা গাড়ির উল্লেখ নেই। মূলত ব্যাংক জমা, নগদ অর্থ, বিমা এবং কিছু গয়নাতেই সীমাবদ্ধ তাঁর ঘোষিত সম্পদ।
বিজেপির দাবি
এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপির দাবি, “হলফনামায় যা দেখানো হয়েছে, তা বাস্তবের সঙ্গে মেলে না।” বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, একদিকে ‘কিছুই নেই’ দেখানো হচ্ছে, অন্যদিকে বিদেশ সফর, ব্যয়বহুল চিকিৎসা এবং চার্টার্ড ফ্লাইটে যাতায়াত—এই জীবনযাত্রা সেই ঘোষণার সঙ্গে খাপ খায় না।
বিজেপির একাধিক নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, একজন জনপ্রতিনিধির আয় ও সম্পত্তির ঘোষণার সঙ্গে তাঁর বাস্তব জীবনযাত্রার সামঞ্জস্য থাকা উচিত। তাঁদের বক্তব্য, “যদি কোনও স্থাবর সম্পত্তি না থাকে, তবে এই ব্যয়বহুল জীবনযাপনের অর্থনৈতিক ভিত্তি কী?” যদিও এই অভিযোগের পক্ষে সরাসরি কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ এখনও সামনে আনতে পারেনি বিরোধীরা।

