প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়েছে, ইশতেহারও প্রকাশ হয়েছে। এবার জোরদার প্রচারে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ২৪ মার্চ দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায় একটি জনসভার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন এবং তার পরদিন নন্দীগ্রামে যাবেন তিনি। সেখানে কর্মীসভা করবেন।

প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়েছে, ইশতেহারও প্রকাশ হয়েছে। এবার জোরদার প্রচারে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ২৪ মার্চ দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায় একটি জনসভার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন এবং তার পরদিন নন্দীগ্রামে যাবেন তিনি। সেখানে কর্মীসভা করবেন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর—এই দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভবানীপুরে তিনি লড়ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তৃণমূল তাঁরই এক প্রাক্তন ঘনিষ্ঠ সহযোগী পবিত্র করকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

'হিন্দু সংহতি'-র মতো একটি কট্টরপন্থী সংগঠনের সদস্য পবিত্র কর ঠিক সেই দিনই তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন, যেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করেছিলেন। এই নির্বাচন দুটি দফায় ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অভিষেকের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষিত হওয়ার পর নন্দীগ্রামে কর্মীদের সঙ্গে এই বৈঠকটিই হবে তাঁর প্রথম অভ্যন্তরীণ সভা।

অভিষেকের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলি জানিয়েছে যে, নন্দীগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে ডায়মন্ড হারবারের এই সাংসদ পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর, কেশিয়াড়ি এবং নারায়ণগড়ে তিনটি জনসভা করবেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়েছিলেন মমতা, কিন্তু পরাজিত হয়েছিলেন। নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী আঘাতও পেয়েছিলেন এবং হুইলচেয়ারে বসেই তিনি এই নির্বাচনী লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অভিষেকের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, দলের সাধারণ সম্পাদকের নির্বাচনী প্রচারসূচি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। তৃণমূলের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে অন্তত একটি করে জনসভায় ভাষণ দেওয়ার চেষ্টা করবেন অভিষেক।

এদিকে, নিজের ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রচারে রবিবার থেকেই নামতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। জানা যাচ্ছে, রবিবার সন্ধ্যায় চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার কর্মীদের নিয়ে এক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে মমতা ছাড়াও হাজির থাকবেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস কুমার, মেয়র ফিরহাদ হাকিম, সাত জন কাউন্সিলর। কর্মী সম্মেলনে সব বুথের কর্মীদেরও হাজির থাকতে বলা হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের লক্ষ্য, ভোটের আগে সরকারের কাজের ফিরিস্তি বুথে বুথে পৌঁছে দেওয়া। ইতিমধ্যেই ভবানীপুরে মমতার জন্য নতুন স্লোগান তৈরি করেছে তৃণমূল। তা হল, ‘বাংলার উন্নয়ন ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে’। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ স্লোগান দিয়ে ভোটে বাজিমাত করেছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল।