সিনিয়র কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী ৩০ বছর পর বহরমপুর থেকে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ছেন। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে হারের পর রাজ্যের রাজনীতিতে ফিরলেন পাঁচবারের এই সাংসদ। লক্ষ্য, রাজ্যে কংগ্রেসকে ফের চাঙ্গা করা।

মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে প্রচার সারলেন কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি এই কেন্দ্রেরই প্রার্থী। দীর্ঘ ৩০ বছর পর বিধানসভা ভোটের ময়দানে নামছেন বহরমপুরের পাঁচবারের এই সাংসদ। লক্ষ্য একটাই, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসকে নতুন করে চাঙ্গা করা। এই লড়াইয়ে তাঁর মূল প্রতিপক্ষ বিজেপির সুব্রত মৈত্র এবং তৃণমূলের নারু গোপাল মুখোপাধ্যায়।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হারের পরেই রাজ্যের রাজনীতিতে আবার সক্রিয় হলেনc। ৩০ বছর পর তিনি বিধানসভা নির্বাচনে লড়ছেন। এর আগে ১৯৯৬ সালে নবগ্রাম থেকে বিধানসভা ভোটে জিতলেও, জাতীয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার জন্য ১৯৯৯ সালে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি।

অধীর চৌধুরীর প্রচার কৌশল

সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অধীর তাঁর প্রচারের কৌশল স্পষ্ট করেছেন। একদিকে যেমন 'ভূমিপুত্র' বা 'ঘরের ছেলে' হওয়ার আবেগ উস্কে দিচ্ছেন, তেমনই শহরের উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মুর্শিদাবাদের সঙ্গে তাঁর ছোটবেলার যোগসূত্রকে তুলে ধরে তিনি নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন, যিনি এলাকার সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

অধীর রঞ্জন চৌধুরী ANI-কে বলেন, "নির্বাচনের নিয়মই হল মানুষের কাছে যাওয়া, তাঁদের সঙ্গে মেশা... ছোটবেলায় এই মাঠেই তো খেলেছি।" বহরমপুরের সমস্যাগুলোও তুলে ধরে তিনি বলেন, "গোটা বহরমপুর শহরজুড়ে ধীরে ধীরে কংক্রিটের জঙ্গল তৈরি হচ্ছে। এর ফলে অনেক সমস্যা দেখা দিচ্ছে... লুঠপাট চলছে। সব কিছুতেই ট্যাক্স বসানো হচ্ছে।"

সমর্থন ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী

সোমবার অধীর চৌধুরী আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, এলাকার মানুষ বরাবরই তাঁকে বিশ্বাস করেছেন এবং আসন্ন নির্বাচনেও তাঁর পাশেই থাকবেন।

তিনি ANI-কে জানান, "শেষ লোকসভা ভোটে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের জন্য আমি আশানুরূপ ভোট পাইনি। কিন্তু আমার হারের পর এখানকার মানুষ আফসোস করেছেন যে এটা ঠিক হয়নি।" বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী অধীর যোগ করেন, "এবারের ভোটে আমি সমর্থন পাবই।"

মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়ছেন এই কংগ্রেস নেতা এবং ভোটের আগে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে।

পশ্চিমবঙ্গের ভোটের নির্ঘণ্ট

পশ্চিমবঙ্গে দুটি দফায় বিধানসভা ভোট হবে। প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা হবে ৪ মে।

প্রথম দফার বিস্তারিত

ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) অনুযায়ী, প্রথম দফায় ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হবে। এর জন্য গেজেট নোটিফিকেশন জারি হবে ৩০ মার্চ।

এই দফায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৬ এপ্রিল এবং মনোনয়ন পরীক্ষা হবে ৭ এপ্রিল। প্রার্থীরা ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল।

দ্বিতীয় দফার বিস্তারিত

দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হবে। এর জন্য গেজেট নোটিফিকেশন জারি হবে ২ এপ্রিল। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৯ এপ্রিল এবং মনোনয়ন পরীক্ষা হবে ১০ এপ্রিল। প্রার্থীরা ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। এই দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৯ এপ্রিল।