৫টি ছোট্ট ভুল করলেই আর ঢুকবে না টাকা! যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে বড় আপডেট দিল নবান্ন
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করার সময় সামান্য ভুলেই বাতিল হতে পারে আপনার আবেদন। এই প্রতিবেদনে জানুন সেই ৫টি ভুলের কথা যা এড়িয়ে চললে নিশ্চিত হবে আপনার মাসিক ১৫০০ টাকা।

রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিয়ে এসেছে এক যুগান্তকারী প্রকল্প ‘বাংলার যুবসাথী’ (Banglar Yuva Sathi Scheme)। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে বেকার ভাতা পাবেন
গত ১৫-১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে এই প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রথম দিনেই লক্ষাধিক আবেদন জমা পড়লেও, নিয়মাবলি না মানলে আবেদনপত্রটি সরাসরি বাতিল হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় ৫টি বিশেষ ভুল এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি।
পেশার কলামে 'ছাত্র' লেখা: এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো আবেদনকারীকে অবশ্যই বেকার হতে হবে। অনেক সময় ছাত্রছাত্রীরা ভুলবশত পেশার জায়গায় ‘Student’ বা ‘ছাত্র’ লিখে ফেলেন। মনে রাখবেন, এটি শুধুমাত্র বেকারদের জন্য প্রকল্প, তাই পেশার ঘরে অবশ্যই ‘Unemployed’ বা ‘বেকার’ লিখতে হবে। ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিলে আবেদনপত্রটি প্রাথমিক পর্যায়েই বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
নাম ও পদবি ব্যবহারে অসঙ্গতি: আবেদনপত্রের নাম এবং পদবি অবশ্যই মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বা সার্টিফিকেটের তথ্যের সঙ্গে হুবহু মিল থাকতে হবে। বিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন স্বামীর পদবি ব্যবহার না করে মাধ্যমিকের নথিতে থাকা নিজস্ব নাম ও পদবিই ব্যবহার করেন। তথ্যের অমিল থাকলে ভেরিফিকেশনে সমস্যা হতে পারে
বয়স গণনার ভুল তারিখ: যুবসাথী প্রকল্পের আবেদনের জন্য বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। বয়স হিসাব করার ক্ষেত্রে আবেদন করার দিনটিকে ধরলে হবে না। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১লা এপ্রিল তারিখের নিরিখে আবেদনকারীর বয়স গণনা করতে হবে। ফর্মে শুধুমাত্র পূর্ণ বছরটি লিখতে হবে।
বর্তমান শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা: আবেদনকারী বর্তমানে যে পড়াশোনা করছেন, সেটি ফর্মে উল্লেখ করা যাবে না। আপনার হাতে শেষ যে পরীক্ষার পাসের শংসাপত্র (Certificate) রয়েছে, সেটিকেই সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে গণ্য করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে পড়েন, তবে তাকে ‘উচ্চ মাধ্যমিক’ পাস হিসেবেই আবেদন করতে হবে।
ছবি ও স্বাক্ষরে ত্রুটি: আবেদনপত্রে ছবি লাগানোর পর তার ওপর অবশ্যই আড়াআড়িভাবে সই (Cross Signature) করতে হবে। অর্থাৎ সইটি ছবির কিছু অংশ এবং ফর্মের সাদা অংশ জুড়ে থাকবে, সই ছাড়া ছবি থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এছাড়া প্রতিটি জমা দেওয়া নথির ফটোকপিতে ‘Self-attested’ বা স্ব-প্রত্যয়িত স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল নম্বর সংক্রান্ত সতর্কতা:
আবেদনপত্রে দেওয়া মোবাইল নম্বরটি অবশ্যই সচল থাকতে হবে এবং সেটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে লিঙ্ক থাকা প্রয়োজন। এছাড়া আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি অবশ্যই আধার কার্ডের সঙ্গে যুক্ত (Aadhaar Seeded) এবং ডিবিটি (Direct Benefit Transfer) সক্রিয় থাকতে হবে, কারণ প্রকল্পের টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
শেষে, ক্যাম্প থেকে ফর্ম জমা দেওয়ার পর প্রাপ্ত রিসিভ কপিতে ‘দুয়ারে সরকার রেজিস্ট্রেশন নম্বর’ লেখা আছে কিনা তা ভালো করে যাচাই করে নিন, যা ভবিষ্যতের স্ট্যাটাস চেক করতে সাহায্য করবে।
আগ্রহী প্রার্থীরা চাইলে https://apas.wb.gov.in/ পোর্টালে গিয়ে অনলাইনেও আবেদন করতে পারেন। সামান্য সতর্কতা অবলম্বন করলেই এই সরকারি প্রকল্পের মাসিক ভাতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.

