ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়কে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়কে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, 'ডিএ কোনও দান বা অনুদান নয়, এটি কর্মচারীদের আইনসিদ্ধ ও ন্যায্য অধিকার। এ কথা আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল। এর ফলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই দাবি ভুল প্রমাণিত হল, যেখানে তিনি বারবার বলেছিলেন যে ডিএ কর্মচারীদের অধিকার নয়।' বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলায় রায় ঘোষণা করেছে। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ এখনই রাজ্য সরকারকে ২৫% বকেয়া DA মিটিয়ে দিতে হবে বলে নির্দেশ দেয়। ৩১ মার্চের মধ্যে এই বকেয়া মেটাতে হবে রাজ্য সরকারকে। বাকি ৭৫ শতাংশ ডিএ দেওয়া নিয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি হবে। বকেয়া কী ভাবে, কতগুলি কিস্তিতে দিতে হবে সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে ওই কমিটি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা ৫৮ শতাংশ ডিএ পাচ্ছেন। আর রাজ্য সরকারি কর্মচারী পাচ্ছেন ১৮%। কেন্দ্র ও রাজ্য DA-র মধ্যে ফারাক ৪০%। পাশাপাশি অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকল হলে কেন্দ্রের DA-র হার আরও ২% বেড়ে যাবে। ২০২৫ সালের মে মাসে পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া DA সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ২৫% DA মেটানোর জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল। ৬ সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে এই সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দিতে পারেনি পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আরও ৬ মাস সময় চাওয়া হয়েছিল। সেই আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু হয় বিচারপতি কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে। সেপ্টেম্বরে শুনানি শেষ হওয়ার পর রায়দান স্থগিত রাখে ডিভিশন বেঞ্চ। আজকে রায় দেওয়া হয়েছে।

Scroll to load tweet…

ডিএ মামলায় রায় নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় লম্বা পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, 'ডিএ মামলায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করলেন মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট। আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভুল প্রমাণিত হলেন, নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার জন্যে বারংবার বলে এসেছেন যে, ডিএ কর্মচারীদের অধিকার নয়। আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিল যে ডিএ হলো কর্মচারীদের আইনসিদ্ধ ন্যায্য অধিকার, কোনও অনুদান নয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, বহু বছরের সংগ্রামের পর অবশেষে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা মহামান্য আদালতের নির্দেশে তাদের ন্যায্য অধিকার অনুযায়ি মহার্ঘ ভাতা পেতে চলেছেন।'

মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে শুভেন্দু লেখেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসংবেদনশীল সরকার দীর্ঘ দিন রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের তাঁদের প্রাপ্য ন্যায্য মহার্ঘ ভাতা থেকে বঞ্চিত করেছেন। ট্রাইব্যুনাল থেকে মহামান্য কলকাতা হাইকোর্ট, একের পর এক আইনি লড়াই জেতার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের কোটি কোটি টাকা ধ্বংস করে দেশের তাবড় আইনজীবীদের দাঁড় করিয়েছেন শুধুমাত্র প্রাপ্য মহার্ঘ ভাতা থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে। কর্মচারীরা আন্দোলন করলে পুলিশের লাঠির আঘাত ধেয়ে এসেছে, তবুও তাঁরা ধৈর্য ধরে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন ও দেশের আইনি ব্যবস্থার উপর ভরসা করে আইনি পথে লড়াই করেছেন। এই জয় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের লড়াইয়ের জয়, ন্যায্য অধিকারের জন্য আপোষহীন এই লড়াইকে আমি কুর্ণিশ জানাই। রাষ্ট্রবাদী মনোভাবাপন্ন সহ সকল রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যেককে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।'