বৃহস্পতিবার উত্তর চব্বিশ পরগণার নিমতায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, আর কোথাও কোনও দলের বিজয় মিছিল হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি জানিয়ে দিলেন, বিজয় মিছিল বন্ধের নির্দেশ তাঁরা মানছেন না। উল্টে আরও বেশি করে বিজয় মিছিল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দিলীপ। 

নিমতায় নিহত দলীয় কর্মীর বাড়িতে গিয়ে বৃহস্পতিবার মমতা অভিযোগ করেন, বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে বিজয় মিছিল করতে বলাতেই বিজেপি তৃণমূল নেতা নির্মল কুণ্ডুকে খুন করেছে। মমতার অভিযোগ ছিল, বিজয় মিছিল থেকেই যাবতীয় অশান্তি ছড়াচ্ছে। ভোটের ফল বেরিয়ে যাওয়ার এতদিন পরে কেন বিজয় মিছিল হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অবিলম্বে সমস্ত রাজনৈতিক দলের বিজয়  মিছিল বন্ধ করার জন্যও পুলিশকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। 

শুক্রবারই উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ ও রায়গঞ্জে বিজেপি-র বিজয় মিছিলে অংশ নিতে যান দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এ বার রায়গঞ্জ থেকে জিতেছেন বিজেপি-র দেবশ্রী চৌধুরী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হয়েছেন তিনি। রায়গঞ্জে পৌঁছনোর পরে বিজয় মিছিল বন্ধ নিয়ে মমতার নির্দেশ মানবেন না বলে সাফ জানান দিলীপ। তিনি বলেন,  "আমরা লিখিl অনুমতি নিয়েছি, প্রস্তুতি নিয়েছি। যেমন কর্মসূচি ছিল, সেই অনুযায়ী বিজয় মিছিল হবে। যাঁরা হেরে গিয়েছে তাঁরা তো মিছিল করবে না, স্বাভাবিক।" 

 

 

দিলীপবাবুর দাবি, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার জন্য ফল বেরনোর পনেরো দিন বাদে তাঁরা বিজয় মিছিল করছেন। এর পরেই চ্যালেঞ্জর সুরে তিনি বলেন, "মানুষ ভোট দিয়েছে, জিতিয়েছে। মিছিল করার অধিকার আমাদের আছে। আমি তো রাস্তায় বেরবোই। পুলিশের ইচ্ছে থাকলে আমাকে বাধা দিতে পারে, গ্রেফতার করতে পারে। কারো যদি সকালবেলা উঠে মনে হয় মিছিল হবে না, মানব না। আমাদের হাজার হাজার লোক আসবে, দেখা যাক কী হয়।" এখানেই শেষ নয়, সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে দিলীপ বলেন,  "উনি কি ঠিক করে দেবেন কবে বিজেপি-র মিছিল হবে না হবে! হেরো পার্টির বলার অধিকার নেই। উনি যদি মনে করেন আটকাবেন, তাহলে যেখানে বিজয় মিছিল করার কথা ছিল না, সেখানেও মিছিল করব। আগামী এক বছর ধরে বিজয় মিছিল করব, ওনার কী?"

দলে ভাঙন আটকাতেই এভাবে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় মিছিল আটকানোর কথা বলেছেন বলেও দাবি দিলীপের। তিনি বলেন, "যেভাবে বিজেপি-তে তৃণমূলের লোক চলে আসছেন, তাতে তাঁদের আটকানোর কোনও উপায় তৃণমূল নেত্রীর কাছে নেই।  বিজয় মিছিল হলে আরও বেশি করে তৃণমূল নেতারা বিজেপি-তে যোগ দিতে পারেন, এই আশঙ্কা থেকেই উনি বিজয় মিছিল আটকানোর চেষ্টা করছেন।" 

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেও অবশ্য পুলিশ উত্তর দিনাজপুরে বিজেপি-র জোড়া বিজয় মিছিলে কোনও বাধা দেয়নি। এ দিন সকালে প্রথমে কালিয়াগঞ্জে বিজয় মিছিল করে বিজেপি। পরে রায়গঞ্জেও বিজয় মিছিল হওয়ার কথা। এ দিন রায়গঞ্জ শহরে লাড্ডুও বিতরণ করা হয় বিজেপি-র পক্ষ থেকে।