মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তর দমদম পুরসভার ছ' নম্বর ওয়ার্ডে খুন হন তৃণমূল নেতা নির্মল কুণ্ডু। ভর সন্ধ্যা বেলায় নিমতায় গুলি করে খুন করা হয় ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি নির্মলবাবুকে। পাড়ার মধ্যেই সেই সময় দাঁড়িয়ে গল্প করছিলেন নির্মলবাবু। হঠাৎই বাইকে করে এসে দুই দুষ্কৃতী। কার্যত চলন্ত বাইক থেকেই ওই তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলি চালানোর ঘটনার ছবি ধরা পড়ে  যায় ওই এলাকার একটি সিসিটিভি ফুটেজে। 

দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলি নির্মলবাবুর মাথায় লাগে। সঙ্গে সঙ্গে লুটিয়ে পড়েন তিনি। নির্মলবাবুর সঙ্গে তখন আরও বেশ কয়েকজন দাঁড়িয়ে গল্প করছিলেন। কিন্তু তৃণমূল নেতাই যে দুষ্কৃতীদের টার্গেট ছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত পুলিশ। যে কায়দায় চলন্ত বাইক থেকেই একবারের চেষ্টাতেই নির্মলবাবুকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে ঠান্ডা মাথায় এলাকা ছাড়ে দুষ্কৃতীরা, তাতে পেশাদার খুনিদের কাজে লাগানো হয়ে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ পুলিশের। 

 

 

 

এই ঘটনায় তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই উত্তম মণ্ডল এবং রবীন্দ্রনাথ শীল নামে দুই বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর অনুযায়ী আরও দু'জনকেও আটক করা হয়েছে। পুলিশের সূত্রের দাবি, খুনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ওই দুই বিজেপি নেতা। ধৃত দুই বিজেপি নেতাকে ইতিমধ্যেই ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকেই গোটা এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। জনবহুল এলাকায় যেভাবে সন্ধ্যাবেলা পাড়ার মধ্যেই খুন হতে হল তৃণমূল নেতাকে, তাতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এলাকাবাসী। মৃত নির্মলবাবু এলাকায় যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিলেন বলেও দাবি দলের নেতা কর্মীদের। এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে বিজেপি-র হাত রয়েছে বলে আগেই শাসক দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল। বিজেপি-র পাল্টা অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে।