রাজ্যের নতুন মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ অপ্রয়োজনীয় বই গ্রন্থাগার থেকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তে ভারতের প্রাচীন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের বই রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্ব নিয়েই কড়া পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যের জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। যে সব বই থেকে নতুন প্রজন্ম শিখতে পারবে না, তা লাইব্রেরিতে রাখার প্রয়োজন নেই। বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনে একথা জানিয়ে দিলেন মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

নব নির্বাচিত বিজেপি সরকার সাফ জানিয়ে দিল, অপ্রয়োজনীয় কোনও বই গ্রন্থাগারে রাখা হবে না। বরং ভারতের প্রাচীন ইতিহাস সংস্কৃতি, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, কাজী নজরুল ইসলামের বই থাকবে বলে জানান গৌরীশঙ্কর। পাশাপাশি তিনি তুলে আনেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কথাও। তিনি বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বছরের পর বছর ধরে। এবার তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে তথ্য সমৃদ্ধ বই থাকবে গ্রন্থাগারে। এঁদের ভুলে গেলে বাঙালি বলব কাদের?

২০২৫ সালের জুনে রাজ্যের স্কুলগুলোর গ্রন্থাগার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই রাখার নির্দেশ দেওয়ার হয়েছিল। ৫১৬ টি বইয়ের তালিকায় প্রায় ৯০টি বই ছিল মমতার লেখা। সেজন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলকে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। প্রতিটি স্কুলের জন্য ১ লক্ষ টাকা।

এপাং ওপাং ঝপাং। রাজ্য রাজনীতিতে বহু চর্চিত এই শব্দবন্ধ। শিশুদের জন্য একটি এনার্জি ড্রিংকস কোম্পানির বিজ্ঞাপনে এটি জিঙ্গল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। বাংলার এর আভিধানিক অর্থ নেই। কাছাকাছি অর্থ, এদিক-ওদিক দৌড়ঝাঁপ। কিন্তু এপাং ওপাং ঝপাং বেশি জনপ্রিয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর লেখা ছড়া হিলেবে। এই শব্দবন্ধ দিয়ে মমতাকে একাধিক আক্রমণ করেছেন বিজেপি নেতারা। এর মধ্যে রয়েছেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে ২০২২ সালে বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ‘কবিতা বিতান’ কাব্যগ্রন্থের জন্য দেওয়া হয়েছিল ওই পুরস্কার। তবে, এবার আর অপ্রয়োজনীয় কোনও বই গ্রন্থাগারে রাখা হবে না। লাইব্রেরিতে থাকবে না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই। এতদিন গ্রন্থাগারে থাকা ৫১৬ টি বইয়ের তালিকায় প্রায় ৯০টি বই ছিল মমতার লেখা। এবার আর তা মিলবে না।