CEO ON Form 6: ফর্ম ৬ ঘিরে ওঠা অভিযোগ ও বিতর্কের মাঝেই অবস্থান স্পষ্ট করল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। জানানো হয়েছে, সরকারি অফিসে যে কোনও ব্যক্তি ইচ্ছামতো সংখ্যায় নথি জমা দিতে পারেন—তার উপর কোনও বিধিনিষেধ নেই।
ফর্ম ৬ ঘিরে ওঠা অভিযোগ ও বিতর্কের মাঝেই অবস্থান স্পষ্ট করল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। জানানো হয়েছে, সরকারি অফিসে যে কোনও ব্যক্তি ইচ্ছামতো সংখ্যায় নথি জমা দিতে পারেন—তার উপর কোনও বিধিনিষেধ নেই। ফলে বিপুল সংখ্যায় ফর্ম ৬ জমা পড়া অস্বাভাবিক নয় এবং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেআইনি নয়।
Form 6 নিয়ে CEOর বার্তা
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক স্পষ্ট করেছেন, ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া এখন সারা বছর ধরে চলে। আগে বছরে নির্দিষ্ট কয়েকটি সময়ে এই ফর্ম জমা দেওয়া যেত, কিন্তু সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী এখন যে কোনও দিন আবেদন করা যায়। তবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে—মনোনয়ন জমার শেষ দিনের ১০ দিন আগে পর্যন্ত যে ফর্ম জমা পড়বে এবং নিষ্পত্তি হবে, শুধুমাত্র সেগুলিই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
অর্থাৎ, এই সময়সীমার পরে জমা পড়া ফর্ম গ্রহণ করা হলেও তা বর্তমান নির্বাচনে কার্যকর হবে না, ভবিষ্যতের জন্য বিবেচিত হবে। প্রথম দফার ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ২৭ মার্চ এবং দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে ৩০ মার্চ পর্যন্ত প্রযোজ্য বলে জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁদের দফতরে এমন কোনও সফটওয়্যার বা ক্ষমতা নেই, যার মাধ্যমে সরাসরি কোনও ভোটারের নাম তালিকায় যুক্ত বা বাদ দেওয়া যায়। এ ধরনের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে জেলা নির্বাচন আধিকারিক (ডিইও) এবং নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ইআরও)-দের মাধ্যমে।
ফর্ম ৬ নিয়ে চক্রান্ত: খতিয়ে দেখার আশ্বাস
দফতরের বক্তব্য, কোনও অভিযোগ বা নথি এলে তা সংশ্লিষ্ট ডিইও-র কাছে পাঠানো হয় এবং আইন অনুযায়ী তদন্ত ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিইও দফতরের ভূমিকা মূলত তদারকি, নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
এদিন আরও জানানো হয়েছে, সম্প্রতি হুগলি ও হাওড়া থেকে কিছু ব্যক্তি দফতরে এসে ফর্ম জমা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের আচরণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফর্ম ৬ নিয়ে যে ‘চক্রান্ত’-এর অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তবে একইসঙ্গে স্পষ্ট বার্তা—সরকারি দফতরে নথি জমা দেওয়া আইনসিদ্ধ এবং নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ছাড়া কোনওভাবেই ভোটার তালিকায় পরিবর্তন সম্ভব নয়।
এই ব্যাখ্যার পরেও রাজনৈতিক চাপানউতোর যে থামছে না, তা স্পষ্ট। তবে নির্বাচন কমিশনের তরফে নিয়মাবলি সামনে এনে বিতর্ক প্রশমনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।


