বুধবার বিধানসভায় ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে কাজ চালাবেন তিনি। বুধবার বিধানসভায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ ছিল। ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়।

বুধবার বিধানসভায় ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে কাজ চালাবেন তিনি। বুধবার বিধানসভায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ ছিল। ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। অর্থাৎ নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই আসনে এবার উপ নির্বাচন হবে। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই জায়গা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধি অনুযায়ী একটি আসন তাঁকে ছেড়ে দিতে হত। এক্ষেত্রে তিনি ভবানীপুরকে বেছে নেওয়ায় নন্দীগ্রাম আসনে উপ নির্বাচন হবে। এখন প্রশ্ন এই আসনে কে বিজেপির প্রার্থী হবেন?

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

উপ নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসন থেকে কে এই মুহূর্তে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা নন্দীগ্রামে শুভেন্দুবাবুর ঘনিষ্ঠ মেঘনাদ পালের নাম শোনা যাচ্ছে। যদিও রাজ্যের শাসকদলের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি। মেঘনাথ নন্দীগ্রাম অঞ্চলে সক্রিয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট (election agent) হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি নন্দীগ্রাম কো-অপারেটিভ মার্কেটিং সোসাইটির চেয়ারম্যান পদেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। যদিও পরবর্তীতে বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন।

বিজেপির আরেকটি সূত্র বলছে নন্দীগ্রাম আসন থেকে প্রার্থী হতে পারে অর্থনীতিবিদ সঞ্জীব সান্যাল। তাঁকে নতুন সরকারে অর্থমন্ত্রী করা হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সঞ্জীব সান্যালকে তাঁর স্ত্রী স্মিতার (যিনি বাংলায় বিজেপির পক্ষে নারীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন) সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ধুতি-কুর্তা পরিহিত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। তিনি ‘বৈশ্বিক বাঙালি’ (Global Bengali)-র সংজ্ঞার সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খেয়ে যান। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স ও সেন্ট জেমস এবং অক্সফোর্ডের সেন্ট জনস-এর মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাগত পটভূমির পাশাপাশি অর্থনীতিতে তাঁর রয়েছে বিশেষ খ্যাতি। তবে সান্যালকে বেছে নেওয়া হলে তা এক বিশেষ ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কেরও জন্ম দিতে পারে। যেখানে তাঁর সমর্থকরা তাঁকে এমন একজন দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখেন যিনি ‘নেহরু-যুগের স্থবিরতা’ ভেঙে ফেলার সক্ষমতা রাখেন, সেখানে শিক্ষাজগতের সমালোচকরা তাঁকে দেখেন একজন ‘জনপ্রিয় ইতিহাসবিদ’ হিসেবে—যাঁর ‘সংশোধনবাদী হিন্দুত্ব’ বিষয়ক বয়ানগুলোতে পাণ্ডিত্যপূর্ণ গভীরতার অভাব রয়েছে। সান্যাল বর্তমানে পুনের গোখলে ইনস্টিটিউট অফ পলিটিক্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স-এর আচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০১৬ সাল থেকে নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। ২০১৬ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে জয়ী হন। তারপর ২০২১ ও ২০২৬ সালে বিজেপির টিকিটে পরপর দু’বার নির্বাচিত হন। ২০২১ সালে এই আসনে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাস্ত করে জায়ান্ট কিলার তকমা পান। এবার নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দু’জায়গা থেকে তিনি লড়াই করেন। নন্দীগ্রাম থেকে ৯ হাজার ৬৬৫ ভোটে জয়ী হন শুভেন্দুবাবু। পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্রেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাস্ত করেন। ১৫১১৪ ভোটে মমতাকে হারান শুভেন্দু। একইসঙ্গে দু’টি কেন্দ্র থেকে বিধায়ক থাকা যায় না। তাই নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে একটি আসন থেকে ইস্তফা দিতেই হত।