দীর্ঘ দুই দশক পর কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। রবীন্দ্রসদনে সেকুলার মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তাঁকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে সুরক্ষার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত ছিলেন।
রবীন্দ্রসদনে দেখা গেল তসলিমা ভক্তদের জোয়ার। তসলিমা নাসরিনের অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল কড়া নিরাপত্তা। যাতে কোনও আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তাই পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল বিশেষ ব্যবস্থা। মোতায়েন ছিল প্রচুর পুলিশ।
২০ বছর পর বাংলায় এসেন তসলিমা। আজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে তসলিমাকে স্মারক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ মুখ্যমন্ত্রী তসলিমা নাসরিনকে পশ্চিমবঙ্গে বারে বারে আসার জন্য আবেদন জানান। আজ অনুষ্ঠানে লেখিকার উদ্দেশে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধনের মুক্ত বার্তা, সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রীর। আপনি যতবার ইচ্ছা, যখন ইচ্ছা আসবেন, কথা বলবেন। শৃঙ্খলামুক্ত, বাঁধনমুক্ত পশ্চিমবঙ্গে সবার আসার, বাক স্বাধীনতার সুযোগ আছে। ধমক-চমক অতীত। আজ প্রমাণিত, নতুন সরকারের হাতে বাংলার গণতন্ত্র, সংবিধান, মৌলিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা সুরক্ষিত।
দুই দশক পর ফের মুক্ত বাংলায় পা রাখলেন তসলিমা নাসরিন। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে চরম বিতর্কের জেরে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর ফের শহরে এলেন তসলিমা। আজ শহরজুড়ে তাঁর হোর্ডিং। বিতর্ক, নিষেধাজ্ঞা আর নির্বাসনের টানাপোড়েন পেরিয়ে তসলিমা নাসরিনের প্রত্যাবর্তনে নতুন করে চর্চায় তসলিমা নাসরিন।
আজ শহরে তসলিমা নাসরিনের বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল। সেকুলার মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল এই অনুষ্ঠান। সন্ধ্যা নাগাদ সেখানে উপস্থিত হন লেখিকা। উপস্থিত হন শুভেন্দু অধিকারী। মঞ্চে তসলিমাকে স্বাগত জানান, দেওয়া হয় নাগরিক সংবর্ধনা। সাহিত্যসম্রাট ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর দ্বিখণ্ডিক স্রষ্টার ছবি খোদাই করা একটি রুপোর মেডেল নাগরিকদের তরফে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।


