- Home
- West Bengal
- Kolkata
- Taslima Nasrin: শুভেন্দুর হাতে কাটছে বাম জমানার ‘লজ্জা’, ২০বছর পর বাংলায় ফিরে কী বললেন তসলিমা নাসরিন?
Taslima Nasrin: শুভেন্দুর হাতে কাটছে বাম জমানার ‘লজ্জা’, ২০বছর পর বাংলায় ফিরে কী বললেন তসলিমা নাসরিন?
Taslima Nasrin News: বদলের বাংলায় 20 বছর পর কলকাতায় পা রেখেছেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। বিজেপি সরকারের শাসনে কলকাতায় ফিরলেও আদেও কী কোনও দিন বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন তিনি? কী বলছেন লেখিকা? বিশদে জানতে দেখুন সম্পূর্ণ ফটো গ্য়ালারি।

কলকাতায় ফিরে কী অনুভূতি তসলিমা নাসরিনের?
দুই দশক পর ফের মুক্ত বাংলায় পা রাখলেন তসলিমা নাসরিন। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ত্যাগ এবং পরবর্তীতে ২০০৭ সালে চরম বিতর্কের জেরে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর ফের শহরজুড়ে তাঁর ফেরার হোর্ডিং। বিতর্ক, নিষেধাজ্ঞা আর নির্বাসনের টানাপোড়েন পেরিয়ে তসলিমা নাসরিনের প্রত্যাবর্তনে নতুন করে চর্চায় তসলিমা নাসরিন।

আবার বাংলায় তসলিমা নাসরিন
তসলিমা নাসরিন আবার বাংলায়। পূর্ব বাংলায় না হলেও, এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। প্রায় দুই দশক পর ‘মুক্ত’ বাংলায় পা রাখলেন এই বিশিষ্ট ও বিতর্কিত সাহিত্যিক। ১ অগাস্ট রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদ বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন ‘নির্বাসিত’ লেখিকা। তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে ছেয়ে গিয়েছে হোর্ডিং।
তসলিমার বঙ্গে প্রত্যাবর্তন
১৯৬২ সালের ২৫ অগাস্ট বাংলাদেশের ময়মনসিংহে জন্ম তসলিমা নাসরিনের। পেশায় চিকিৎসক হলেও লেখালিখি এবং পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার চাঁচাছোলা সমালোচনাই তাঁকে এনে দেয় বিশ্বজোড়া পরিচিতি।
তসলিমা নাসরিনের লেখালেখি ঘিরে তৈরি হয় একের পর এক বিতর্ক। ১৯৯৩ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া পরিস্থিতির পটভূমিতে লেখা তাঁর উপন্যাস ‘লজ্জা’।
উপন্যাস ‘লজ্জা’ বিশ্বজুড়ে আলোড়ন ফেললেও, বাংলাদেশে তা নিষিদ্ধ হয়। ধর্মীয় মৌলবাদীদের চরম আক্রোশ ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে ১৯৯৪ সালে বাধ্য হয়ে জন্মভূমি বাংলাদেশ ত্যাগ করেন তিনি।
কেন কলকাতা ছেড়েছিলেন তসলিমা নাসরিন?
বাংলাদেশ ছাড়ার পর দীর্ঘ সময় ইউরোপ ও আমেরিকায় কাটানোর পর ২০০৪ সালে ভারত সরকারের অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়ে তিনি কলকাতায় এসে থাকা শুরু করেন। কলকাতার সাহিত্যিক ও শিল্পীদের সঙ্গে গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক। কিন্তু বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়েনি। ২০০৩ সালে তসলিমার আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘দ্বিখণ্ডিত’ (যা বাংলাদেশে ‘ক’ নামে পরিচিত ছিল) প্রকাশ পেতেই উত্তাল হয়ে ওঠে কলকাতা।
বামফ্রন্ট সরকারের আমলে রাজ্য় ছাড়েন তসলিমা
বইটিতে ধর্মীয় বিধিনিষেধ এবং সমাজব্যবস্থার কঠোর সমালোচনার জেরে সংখ্যালঘু এলাকাগুলিতে তীব্র অশান্তি ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সে সময় রাস্তায় সেনা পর্যন্ত নামাতে হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার খাতিরে বইটি নিষিদ্ধ করে এবং ২০০৭ সালে তসলিমাকে রাজ্য ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তসলিমা নাসরিনের নিষিদ্ধ ৬টি বিতর্কিত বই
১৯৯৩ সালে 'লজ্জা': সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে বাংলাদেশে বাজেয়াপ্ত।
১৯৯৯ সালে 'আমার মেয়েবেলা': পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নিজস্ব অভিজ্ঞতার খোলামেলা বর্ণনায় 'অশ্লীলতার' অভিযোগে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ।
২০০২ সালে 'উতল হাওয়া': 'আমার মেয়েবেলা'র দ্বিতীয় খণ্ড; ইসলামবিরোধী তথ্যের অভিযোগে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ।
২০০৩ সালে ‘ক’: ব্যক্তিজীবনের খোলামেলা কথা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের জড়িয়ে মন্তব্যের জেরে হাইকোর্টের নির্দেশে নিষিদ্ধ।
২০০৩ সালে ‘দ্বি-খণ্ডিত’: 'ক'-এর পশ্চিমবঙ্গ সংস্করণ; ধর্মীয় সম্প্রীতি ভঙ্গের অভিযোগে বামফ্রন্ট সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ।
২০০৪ সালে ‘সেই সব অন্ধকার’: ধর্মীয় বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ।
বিজেপি সরকারের আমলে দীর্ঘ ২০ বছর পর আবার কলকাতায় তসলিমা
কলকাতা ছাড়ার পর প্রায় দু’দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের বাইরেই জীবন কেটেছে তাঁর। অবশেষে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের আমলে দীর্ঘ ২০ বছর পর আবার কলকাতায় ফিরলেন তসলিমা নাসরিন।

