অভিষেক-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী কিছুদিন নিরুদ্দেশ থাকার পর অবশেষে পুলিশের জেরার সম্মুখীন হয়েছেন। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। 

কদিন নিরুদ্দেশ থাকার পর পুলিশি জেরার মুখে দেবরাজ চক্রবর্তী। অভিষেক ঘনিষ্ঠ নামে তিনি খ্যাত ছিলে। দুর্নীতির অভিযোগে আটক করা হয়েছে অদিতি মুন্সির স্বামীকে। বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর তথা এমআইসি দেবরাজ চক্রবর্তী ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। রাজনৈতির ও প্রশাসনিক মহলে গুঞ্জন ছড়ায়, আইনি জট এড়াতে তিনি সম্পূর্ণ নিরুদ্দেশ হয়েগিয়েছেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। দীর্ঘ লুকোচুরির পর অবশেষে পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হল তাঁকে। মঙ্গলবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর সাময়িক আশ্রয়ে হানা দেয়। এরপর তাঁকে আটক করা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বুধবার ভোর পর্যন্ত দেবরাজ চক্রবর্তীর আটক বা গ্রেফতার নিয়ে পুলিশ সরকারি ভাবে কিছু জানায়নি। আবার কেউ কেউ দাবি করেন দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেফচার করেছে ইডি। কেউ বলছে সিআইডি। দাবি করা হয়েছে, তাঁরে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ভবানীভবনে। সেখানে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। যদিও এখনও কোনও নিশ্চিত খবর মেলেনি। তোলাবাজি, দুর্নীতি-সহ একাধিক মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জল্পনা ছড়িয়েছে।

এদিকে আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পাপ বিদায় বলে পোস্ট করেন রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তাঁর ওই পোস্টের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেবরাজ চক্রবর্তীর নাম করে, প্রশ্নবোধক চিহ্ন-সহ পোস্ট করেন বিজেপি প্রাক্তন নেতা সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিজেপি নেতা জানান, গ্রেপ্তার করা হয়েছে দেবরাজ চক্রবর্তীকে। এদিকে দেবরাজকে নিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে বারে বারে সরব হয়েছিল রাজ্য বিজেপি। তোলাবাজি, বিরোধীদের ওপর আক্রামণ-সহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল তাঁকে ঘিরে।

এদিকে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এবং নবান্নে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই দেবরাজ চক্রবর্তীর ওপর নজরজারি বাড়াচ্ছিল পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে বিধাননগর পুর এলাকার একাধিক নিয়োগ ও টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল আর্থিক দুর্নীতির ডসিয়ার তৈরি করা হয়েছিল। গ্রেফতারি এড়াতে গত কয়েকদিন ধরে নিজের সমস্ত মোবাইল বন্ধ রেখে বেপাত্তা ছিলেন তিনি। কিন্তু, শেষ রক্ষা হল না।