তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতাদের একহাত নিলেন মদন মিত্র। তাঁর সাফ কথা, মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের নামেই ভোট আসে। হিম্মত থাকলে পদত্যাগ করে আবার ভোটে জিতে দেখানোর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন তিনি।
তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিদ্রোহী নেতাদের দাবি এককথায় উড়িয়ে দিলেন দলের নেতা মদন মিত্র। শুক্রবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২০ জনের বেশি সাংসদের সমর্থনের দাবি ভিত্তিহীন। তাঁর কথায়, দলের ম্যান্ডেট মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের দিকেই। তাই দলত্যাগীদের চ্যালেঞ্জ, ক্ষমতা থাকলে আবার ভোটে জিতে দেখান।

মদনের চ্যালেঞ্জ
কলকাতায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ঢোকার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মদন মিত্র। দলের বিদ্রোহী নেতাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন: "ওরা তো বলতেই পারে যে গোটা দল ওদের সঙ্গে আছে। কিন্তু আড়াই কোটি মানুষ তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে ভোট দিয়েছে। যারা দল ছাড়ছে, তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি যে পদত্যাগ করে নিজের কেন্দ্রে গিয়ে আবার ভোটে লড়ার কথা বলতে পারে? যদি কেউ জেতে, আমি তাকে স্যালুট করব," বলেন মদন মিত্র।
তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে , যখন তৃণমূলের অন্দরের সংকট ক্রমশ বাড়ছে। সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক - ঋতব্রত ব্যানার্জি এবং সন্দীপন সাহা - দাবি করেছেন যে দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন।
মমতার বাড়িতে বৈঠক
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে মদন মিত্রের পৌঁছনোর সময়েই সেখানে আসেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দুজনেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন। বৈঠকের বিষয়বস্তু বা দলে কোনও সাংগঠনিক রদবদল হতে পারে কিনা, এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মদন মিত্র জানান যে দলনেত্রীই এই নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন। তিনি বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের চেয়ারপার্সন। বৈঠকের বিষয় নিয়ে উনিই আপনাদের বিস্তারিত জানাবেন।"
এই বৈঠকটি এমন এক পরিস্থিতিতে হচ্ছে যখন দলের অন্দরে যথেষ্ট টানাপোড়েন চলছে। বুধবারই কলকাতা পৌরসংস্থার (KMC) মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন দলের বর্ষীয়ান নেতা ফিরহাদ হাকিম, যা এই সংকটকে আরও স্পষ্ট করেছে।
দীর্ঘদিনের সহকর্মীর দলত্যাগ প্রসঙ্গে মদন মিত্র তাঁর ব্যক্তিগত হতাশার কথা জানান: "খারাপ তো লাগেই। ও আমার বন্ধু, ভাইয়ের মতো। আমরা এতদিন একসঙ্গে কাজ করেছি। তবে এই দুনিয়ায় সবকিছুই হতে পারে। এমন কিছু নেই যা হতে পারে না," বলেন তিনি।


