রবিবার খড়্গপুরে একটি তেরঙ্গা যাত্রার আয়োজন করা হয়। সদর বিধায়ক ও মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এই মিছিলে অংশ নেন। তিনি জানান, 'হর ঘর তেরঙ্গা' অভিযানের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি এবার গোটা বাংলা জুড়ে পালন করা হবে।
রবিবার খড়্গপুরে একটি তেরঙ্গা যাত্রার আয়োজন করা হয়। জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানাতে এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ স্মরণ করতে বহু মানুষ এই মিছিলে যোগ দেন। মিছিলে অংশ নেন খড়্গপুর সদরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
তেরঙ্গা যাত্রায় দিলীপ
এই অনুষ্ঠানে দিলীপবাবু বলেন, 'হর ঘর তেরঙ্গা' অভিযানের অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি বাড়িতে জাতীয় পতাকা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে তেরঙ্গা যাত্রা করা হবে। তিনি বলেন, "গোটা বাংলা জুড়ে তেরঙ্গা যাত্রা হচ্ছে। 'হর ঘর তেরঙ্গা' অভিযানের মাধ্যমে প্রত্যেক বাড়িতে জাতীয় পতাকা পৌঁছে দেওয়া হবে... আজ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং অন্যান্য জেলাতেও এটি পালন করা হবে। ১০ তারিখে কলকাতায় একটি বড় অনুষ্ঠান হবে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।"
মন্ত্রী জানান, অন্যান্য জেলাতেও এই কর্মসূচি পালন করা হবে এবং ১০ আগস্ট কলকাতায় একটি বড় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হবে।
রাজ্যে হর ঘর তেরঙ্গা কর্মসূচি
এর আগে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে রাজ্য সরকার প্রথমবারের মতো 'হর ঘর তেরঙ্গা' অভিযানে অংশ নেবে এবং রাজ্যজুড়ে ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণ করা হবে। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করে বলেন, রাজ্য সরকার কলকাতার বুকে একটি বিশাল দেশাত্মবোধক কর্মসূচি করতে চায়।
শুভেন্দুবাবু বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুসারে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা জানিয়ে সরকার একটি সার্কুলার জারি করেছে। সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে কেন্দ্রের নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে এই কর্মসূচি রূপায়ণ করা হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই প্রথম 'হর ঘর তেরঙ্গা' অভিযানে অংশ নিচ্ছে। আমাদের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মাধ্যমে ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণের কাজ ৫ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে। এছাড়াও, ১০ তারিখে একটি বড় 'তেরঙ্গা র্যালি' আয়োজন করা হবে; এই র্যালি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তির পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের ১ নম্বর গেট পর্যন্ত যাবে। আমরা আশা করছি, কমপক্ষে ৫০,০০০ দেশপ্রেমিক নাগরিক এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।"
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্য়ে একগুচ্ছ কর্মসূচি
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২২ সালে 'আজাদি কা অমৃত মহোৎসব'-এর অধীনে 'হর ঘর তেরঙ্গা' অভিযান শুরু করেন। এই অভিযানের লক্ষ্য হল নাগরিকদের বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে উৎসাহিত করা এবং তেরঙ্গার সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি করা। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানানো এবং নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করাও এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য।
এ বছর 'বন্দে মাতরম'-এর ১৫০ বছর পূর্তিকে বিশেষভাবে উদযাপন করা হবে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা, ব্লক এবং পঞ্চায়েত স্তরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
হর ঘর তেরঙ্গা ২০২৬-এর প্রধান কর্মসূচিগুলির মধ্যে থাকবে তেরঙ্গা র্যালি ও শোভাযাত্রা, প্রদর্শনী, তেরঙ্গা কনসার্ট, বাইক ও সাইকেল র্যালি, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে তেরঙ্গা আলোয় সজ্জা, এবং আলপনা কর্মসূচি। জনপ্রিয় 'সেলফি উইথ তেরঙ্গা' উদ্যোগের পাশাপাশি "তেরঙ্গা স্যালুট টু দ্য স্পিরিট অফ বন্দে মাতরম" থিমের অধীনে বিশেষ অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে। এই সময়কালে প্রতিটি বাড়িতে এবং সরকারি দপ্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।


