Durga Idol: শুধু মাটি দিয়েই নয়, আরও অনেক কিছু দিয়েই তৈরি হয় দুর্গা প্রতিমা। এমনই এক দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেছে মালদার গাজোলের এক কিশোর। তার তৈরি দুর্গা প্রতিমার পাশাপাশি এই মূর্তি তৈরির উপায়ও নজর কেড়ে নিয়েছে।
KNOW
Durga Puja 2026: টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে জমিয়েছিল টাকা। সেই সঞ্চিত অর্থ দিয়ে কাগজ ও কার্ডবোর্ড ব্যবহার করে তৈরি করে ফেলেছে দুর্গা প্রতিমা। নিজের হাতে তৈরি সেই প্রতিমা দেখিয়ে ইতিমধ্যেই প্রতিবেশীদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে মালদার গাজোলের নবম শ্রেণির পড়ুয়া ১৫ বছর বয়সি বিক্রম সরকার। প্রায় এক মাস ধরে ধীরে ধীরে তৈরি করা প্রতিমার কাজ এখন প্রায় শেষ। চলছে সাজসজ্জা ও বাহন তৈরির কাজ। প্রায় দেড় ফুট উচ্চতা ও আড়াই ফুট চওড়া একচালা দুর্গাপ্রতিমাটি তৈরি করতে বিক্রম খরচ করেছে নিজের জমানো প্রায় ৫০০ টাকা। পুজোর কয়েকদিন বাড়িতেই এই প্রতিমা ভক্তিভরে পুজো করার ইচ্ছা তার। পরে বিসর্জন না দিয়ে প্রতিমাটি সংরক্ষণ করতে চায় সে। তবে কেউ সংগ্রহে রাখতে চাইলে এই প্রতিমা দিয়ে দিতেও আপত্তি নেই বিক্রমের।
ছোটবেলা থেকেই মূর্তি তৈরি করে বিক্রম
ছোটবেলা থেকেই দেবদেবীর মূর্তি তৈরির প্রতি আগ্রহ আছে বিক্রমের। সাত-আট বছর বয়স থেকেই কাগজ ও কার্ডবোর্ড দিয়ে রথ, জগন্নাথ, মনসা ও গোপালের মূর্তি তৈরি করেছে। এবার তৈরি করেছে দুর্গা প্রতিমা। বিক্রম বলেছে, পুজোর মন্ত্র জানা না থাকলেও ষষ্ঠীর বোধন থেকে নিজের মতো করে ভক্তিভরে মায়ের আরাধনা করবে। বিক্রমের বাবা বিকাশ সরকার একটি মিলে ঠিকা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তার মা গৌরী দাস সরকার গৃহবধূ। তিনি জানিয়েছেন, স্কুলে যাওয়ার সময় দেওয়া ১০ টাকা থেকে খরচ বাঁচিয়ে নিজের শখ পূরণ করে ছেলে। মোবাইলে সময় না কাটিয়ে নানা সৃষ্টিশীল কাজে মেতে থাকে সে। বিক্রমের প্রতিভায় খুশি প্রতিবেশীরাও। পুরোহিত আমন কুমার ঝা বলেছেন, দেবদেবীর প্রতি বিক্রমের গভীর অনুরাগ রয়েছে। তাঁর তৈরি দুর্গা প্রতিমাটিও প্রশংসার যোগ্য। তবে শিল্পী নয়, বড় হয়ে পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন দেখে বিক্রম।
সারা বাংলায় শিল্পকলার চর্চা
কলকাতার পাশাপাশি জেলাগুলিতেও সারা বছর ধরে বিক্রমের মতোই হাজার হাজার অনামী শিল্পী শিল্পকলার চর্চা করে থাকেন। বিশেষ করে দুর্গাপুজোর সময় শিল্পচর্চার পরিচয় পাওয়া যায়। বিক্রমের প্রতিভাও এভাবেই নজর কেড়ে নিয়েছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


