- Home
- West Bengal
- Kolkata
- TMC Vs NCPI: চতুর্থবার ১৪ দিন সময় চাইলেন সুদীপ-কাকলিরা, দলত্যাগ বিরোধী আইনে কী হবে ২০ সাংসদের?
TMC Vs NCPI: চতুর্থবার ১৪ দিন সময় চাইলেন সুদীপ-কাকলিরা, দলত্যাগ বিরোধী আইনে কী হবে ২০ সাংসদের?
TMC vs NCPI: স্পিকারের নোটিসের জবাব দিতে আরও সময় চেয়ে চিঠি পাঠাচ্ছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ এখন কোন পথে? দলত্যাগ বিরোধী আইনে কী হতে পারে, জানুন।

NCPI না TMC!
অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী ২০জন সাংসদ। তারা কোন দলে রয়েছেন - তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই অবস্থায় আবারও স্পিকারের দ্বারস্থ হয়েছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় , কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা। যদিও তাদের দল সংক্রান্ত বিষয়ে জবাব দেওয়ার শেষ দিন আজই।

সময় চেয়ে চিঠি, ভবিষ্যৎ এখন স্পিকারের হাতে
জবাব দেওয়ার সময়সীমা শেষ হচ্ছে আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই। তার আগেই লোকসভার স্পিকারের কাছে আরও ১৪ দিন সময় চাইছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারেরা। সুদীপ জানিয়েছেন, বিকেল ৫টার মধ্যে লোকসভার সচিবালয়ে চিঠি পৌঁছে যাবে। এই আবেদন মঞ্জুর হবে কি না, তার উপরেই এখন নির্ভর করছে পরের ধাপ।
২০ জনের সাংসদপদ কি শেষ পর্যন্ত বিপদে?
২০ জনের সাংসদপদ খারিজের আবেদন করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকার ওম বিড়লা এখনও সেই আবেদনে কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি। দলত্যাগ বিরোধী আইনে সিদ্ধান্ত হলে সুদীপদের সংসদের সদস্যপদই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
স্পিকারের মূল প্রশ্ন, উত্তর এখনও অধরা
কেন তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিলেন, আর কেন তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হবে না, সেটাই জানতে চেয়েছেন স্পিকার। এই যুক্তিই সুদীপদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ হতে পারে। অথচ তিন দফা সময় পেয়েও সেই উত্তর এখনও জমা পড়েনি।
৩ দফায় মিলল সময়, তবু তৈরি হল না জবাব
প্রথমে সাত দিন, দ্বিতীয় দফায় তিন সপ্তাহ, তৃতীয় দফায় আরও দু’সপ্তাহ সময় পেয়েছিলেন এনসিপিআই সাংসদেরা। অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত সুদাপরা স্পিকারের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য মোট ৬ সপ্তাহ সময় পেয়েছিলেন। তার পরেও নির্ধারিত সময়ে উত্তর তৈরি করতে পারলেন না আইনজীবীরা। ফলে চতুর্থবার সময় চাইতে হচ্ছে।
কলকাতায় সুদীপের বাড়িতে বৈঠক
বৃহস্পতিবার কলকাতায় সুদীপের বাড়িতে বৈঠকে বসেন ওই সাংসদেরা। এনসিপিআই সূত্রের দাবি, সেখানে সময় চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আরও এক প্রস্থ আলোচনা হয়। বুধবারই স্পিকারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে অতিরিক্ত সময়ের অনুরোধ জানিয়েছিলেন সুদীপ।
সুপ্রিম কোর্টের নজর, চাপ বাড়ছে সুদীপদের উপর
স্পিকারের সিদ্ধান্তে বিলম্বের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক। ২৫ অগস্ট ওই ২০ জনকে নোটিস দেয় শীর্ষ আদালত। স্পিকার ও লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্যও জানতে চাওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বিষয়টি এখন আর শুধু লোকসভার অন্দরে সীমাবদ্ধ নেই।
এখনও স্বীকৃতি নেই এনসিপিআই-এর
স্পিকার ওই ২০ জনকে এনসিপিআই সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি দেননি। সেই স্বীকৃতি না মেলা পর্যন্ত লোকসভায় আলাদা দল হিসেবে সুদীপদের অবস্থান অনিশ্চিতই থাকছে। এটাই তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন।
কুণালের কটাক্ষ: লেটার হেডে এনসিপিআই, আদালতে কেন নয়?
মোদীকে লেখা চিঠিতে নিজেকে এনসিপিআই সাংসদ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন সুদীপ। সেই চিঠি নিয়েই কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, স্পিকার আর সুপ্রিম কোর্টে কেন সেই পরিচয় লেখা হচ্ছে না? যে দল লোকসভায় স্বীকৃত নয়, তার দলনেতা কী করে হন সুদীপ?
১৪ দিন পরেও কি মিলবে নিশ্চয়তা?
অতিরিক্ত সময় পেলেও জবাবে সুদীপরা কী বলেন, আর স্পিকার তা মেনে নেন কি না, তার উপরেই সবকিছু নির্ভর করবে। জবাবে সন্তুষ্ট না হলে স্পিকার অভিষেকের আবেদনের ভিত্তিতে পদক্ষেপও করতে পারেন। আবার সময় বাড়ানো হলে লড়াই আরও কিছুদিন গড়াবে।
সামনে দুই রাস্তা: আইনি লড়াই, না রাজনৈতিক সমঝোতা?
এক দিকে স্পিকারের সিদ্ধান্ত ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, অন্য দিকে তৃণমূলের আক্রমণ। এই দুইয়ের মাঝে সুদীপ-কাকলিদের ভবিষ্যৎ ঝুলে রয়েছে। আগামী দু’সপ্তাহই ঠিক করে দিতে পারে, ওই ২০ জন সাংসদ সংসদে টিকে থাকবেন, না কি সদস্যপদ হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন।

