বাবা মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল ছেলে এবং বউমার বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে চুঁচুড়ার বুনোকালীতলার বাড়িতে ফিরলেন বৃদ্ধ দম্পতি। 

স্থানীয় সূত্রে খবর, গত ৭ মার্চ মা বাবাকে মারধোর করে অজিত ঘোষ এবং শ্যামলী ঘোষ নামে ওই বৃদ্ধ দম্পতিকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন তাঁদের  ছেলে এবং বৌমা। বাধ্য হয়ে দুই মেয়ের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন বৃদ্ধ দম্পতি। ছেলে জয়ন্ত ঘোষ এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন ওই বৃদ্ধ দম্পতি।

আরও পড়ুন- দু' দিন ধরে সমু্দ্রে ভেসে বাংলাদেশি কিশোর, উদ্ধার করলেন রায়দিঘির মৎস্যজীবীরা

শেষ পর্যন্ত এপ্রিল মাসে মহকুমা শাসক এবং মেইন্টেন্যান্স ট্রাইবুনালে মামলা করেন ওই বৃদ্ধ দম্পতি। সোমবার মামলার রায় দেয় ট্রাইবুনাল। রায়ে ট্রাইবুনালের বিচারক জানান, ওই বৃদ্ধ দম্পতি তাঁদের বাড়িতেই থাকতে পারবেন। চুঁচুড়া থানার পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয় তাদের বাড়ি ঢুকিয়ে দিতে। সেই মতো এ দিন চুঁচুড়া থানার পুলিশ অজিতবাবু ও তাঁর স্ত্রী শ্যামলী দেবীকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।

অভিযুক্ত ছেলে জয়ন্ত ঘোষের অবশ্য দাবি, তাঁর দুই বোনের মদতে মা বাবা মিথ্যা অভিযোগ করছেন। তিনি তাঁর মা- বাবাকে মারধর করেননি। বাড়ি থেকে বের করেও দেওয়া হয়নি। জয়ন্তবাবুর দুই বোনের দাবি, তাঁরা শুধু চান এই বয়সে তাঁদের মা বাবা একটু শান্তিতে নিজেদের বাড়িতে বসবাস করুন। এ ছাড়া আর কিছু চান না তাঁরা।

জয়ন্তবাবুর মা শ্যামলীদেবীর অবশ্য অভিযোগ, বাড়ি মেরামতির জন্য ঋণ নেওয়ার নাম করে তাঁদের থেকে দানপত্র করিয়ে নিয়েছিলেন ছেলে। ছেলে তাঁকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার পরেও তিনি ছেলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে দেননি বলে জানিয়েছেন শ্যামলীদেবী। তার পরেও ছেলে অত্যাচার থামায়নি বলে অভিযোগ শ্যামলীদেবীর। এমন কী দিনের পর দিন তাঁদের খেতে দেওয়া হতো না বলেও অভিযোগ। তবে এবার আর তাঁরা ছেলের অত্যাচার সহ্য করবেন না বলে জানিয়েছেন শ্যামলীদেবী। কান্না ভেজা গলায় তিনি বলেন, 'নিজের বাড়ি ফিরছি, ভাল লাগছে। কিন্তু এমন ছেলে যেন আর কারও না হয়।'