কখনও কলকাতা হাইকোর্টের নাম ভাড়িয়ে আবার কখনও বা কলকাতা হাইকোর্টের চত্বরকে ব্যবহার করেই চলছে জালিয়াতি। গত কয়েক মাসে এমন বেশকিছু জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। এরমধ্যে একটি ঘটনায় পুলিশ একাধিক জনকে গ্রেফতারও করেছে। এখনও একটি কেসে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। যেখানে প্রতারণার শিকার হয়েছেন খোদ এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। এহেন পরিস্থিতির মধ্যে এবার সামনে এল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির সই জাল করে জালিয়াতির ঘটনা। আর এই প্রতারণার ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরে। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতারককে পুলিশ গ্রেফতারও করেছে।  

আরও পড়ুন- উচ্চ প্রাথমিকে পড়ে রয়েছে ৫০০০ শূন্য পদ, জট কাটাতে হাইকোর্টে আর্জি এসএসসি-র

দক্ষিণ দিনাজপুর পুলিশ ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টকে এই মর্মে একটি চিঠিও পাঠিয়েছে। সেই সঙ্গে জালিয়াতিকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির একটি আই কার্ডের স্ক্যান কপিও পাঠিয়েছে হাইকোর্টে। দেখা যাচ্ছে জাজেস কাউন্সিল অফ ওয়েস্টবেঙ্গলের নামে এই পরিচয়পত্রটি মঞ্জুর করা হয়েছে। এমনকী এতে আবার লেখা রয়েছে চন্দনকুমার মহন্ত নামে যে ব্যক্তি পরিচয় দিচ্ছেন তিনি একজন বিচারক। এই পরিচয়পত্রের নিচে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অরুণ মিশ্রর স্বাক্ষর রয়েছে। সহকারী প্রধানবিচারপতি হিসাবে ডক্টর অসীমকুমার রায়ের নামেরও স্বাক্ষর রয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুর পুলিশের মতে, এই সমস্তকিছুই জাল করা হয়েছে। হাইকোর্টে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে এই ধৃত ব্যক্তি সম্পর্কে বিভাগীয় খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবরে, ধৃত চন্দন কুমার মহন্ত নামে কোনও বিচারপতির খোঁজ মেলেনি।  

জুলাই মাসেই চন্দনকুমার মহন্ত নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে লাগাতার ফোন পাচ্ছিলেন হরিরামপুর হাসপাতালের বিএমওএইচ সৌভিক আলম। জানা গিয়েছে, চন্দন নিজেকে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বলে পরিচয় দিয়ে সমানে সৌভিকের সঙ্গে দেখা করতে চাইছিল। কিন্তু, চন্দনের কিছু কথায় সৌভিকের মনে সন্দেহ তৈরি হয় এবং তিনি চন্দনকে এড়িয়ে যেতে থাকেন। এরপরও চন্দন সমানে সৌভিককে ফোন করে চলে এবং হাসপাতালে কারওর নিয়োগের জন্য সে চাপও তৈরি করছিল। এরজন্য চন্দন নিজের বিচারপতির ভুয়ো পরিচয়পত্রকেও কাজে লাগায়। 

আরও পড়ুন- জলাভূমি বোজানোর অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা, রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের

গোটা ঘটনায় সন্দেহ হওয়ায় সৌভিক আলম অতিরিক্ত জেলাশাসকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। অতিরিক্ত জেলাশাসকের হস্তক্ষেপে তদন্ত শুরু করে হরিরামপুর থানা। এরপর একদিন চন্দনকে হরিরামপুর হাসপাতালে ডাকেন বিএমওএইচ সৌভিক আলম।  চন্দন সাক্ষাতের জন্য হাসপাতালে আসতেই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে চন্দন-এর সঙ্গে কথা বলে। কিন্তু, চন্দন তাঁর বিচারপতি হওয়ার উপযুক্ত প্রমাণ দেখাতে না পারায় এবং বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় পুলিশ তাকে আটক করে। পরে, প্রাথমিক তদন্তে সামনে আসে চন্দনের জালিয়াতির সব প্রমাণ।  

আরও পড়ুন- কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি-র সারপ্রাইজ ভিজিট, তটস্থ আদালতের অন্দরমহল

পুলিশ তদন্তে জানতে পারে চন্দনের বাড়ি বংশীহারি এলাকার কুশাকারী গ্রামে। এলাকায় চন্দনের নামে জালিয়াতির একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও পুলিশ জানতে পারে। আরও জানা যায় যে বহু ছেলে-মেয়ের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সে। এদের প্রত্যেককেই সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল চন্দন। এরপরই পুলিশ ২৭ জুলাই চন্দনকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে সে জেল হেফাজতে রয়েছে। 

ইতিমধ্যেই পুলিশ এই ঘটনাকে অতি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে শুরু করেছে। কারণ, চন্দনের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া পরিচয়পত্রে প্রধান বিচারপতির সই। এই ভুয়ো পরিচয়পত্র দিয়ে চন্দন আরও কাকে কাকে প্রতারণার জালে ফাঁসিয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এমনকী, শুধুই কি জেলায় না কলকাতাতেও চন্দনের জালিয়াতির জাল বিস্তৃত রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পিছনে আর কোনও বড় চক্র জড়িত কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।