ফলতায় ইভিএম মেশিনে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার নামের পাশে বোতাম টেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়ার অভিযোগ। হরিণডাঙা হাইস্কুলের বুথের ঘটনা। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ইভিএমে পদ্ম প্রতীকের বোতামটি টেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল যাতে ভোটাররা তা দেখতে না পান। অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যেই এই বুথে পুননির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বিজেপি।

ফলতায় ইভিএম মেশিনে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার নামের পাশে বোতাম টেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়ার অভিযোগ। হরিণডাঙা হাইস্কুলের বুথের ঘটনা। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ইভিএমে পদ্ম প্রতীকের বোতামটি টেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল যাতে ভোটাররা তা দেখতে না পান বা ভোট দিতে না পারেন। অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যেই এই বুথে পুননির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বিজেপি। ইতিমধ্যে অভিযোগ খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন। শুধু তাই নয়, চাওয়া হয়েছে বিস্তারিত রিপোর্টও। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর জানিয়েছে, যদি কোনও বুথ থেকে EVM-এর বোতাম ট্যাপিংয়ের খবর পাওয়া যায়, তবে সেই তথ্য নোট করা হবে। যদি অভিযোগ সত্যি হয় তবে সেখানে রিপোল হবে।

বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, ফলতা বিধানসভার দেবীপুরের ১৭৭ নম্বর বুথে ইভিএমে বিজেপির প্রতীকের উপরে এই টেপ সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেবাংশু পান্ডার দাবি, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করা হয়েছে। এই ঘটনার পিছনে তৃণমূল আছে বলেও দাবি তাঁর। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ইভিএম বোতাম কারচুপির অভিযোগ করেছেন। প্রার্থীর মতে, বেশ কয়েকটি বুথে তাঁর নাম এবং দলের প্রতীকের জন্য ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) বোতামটি জ্যাম করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেন যে, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে যাতে ভোটাররা তাঁর পক্ষে ভোট দিতে না পারেন। দেবাংশু পান্ডা আরও অভিযোগ করেন, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে এবং সুষ্ঠু ভোট প্রতিরোধ করতে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ফলতার এই ঘটনা নিয়ে আসরে নেমেছেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। তিনি এক্স (টুইট) হ্যান্ডেলে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে লেখেন, "ডায়মন্ড হারবারের ফলতা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের (TMC) টিকিটে নির্বাচনে লড়তে থাকা এক অপরাধী জাহাঙ্গির খানের পক্ষ নিয়ে কথা বলার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক এই বিষয়টিরই সাফাই গাইছিলেন। একাধিক ভোটকেন্দ্রে টেপ ব্যবহার করে বিজেপির পক্ষে ভোট দেওয়ার বিকল্পটি আটকে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভোটাররা কার্যত তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটাই হল তথাকথিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’—সেই একই ছক, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর লোকসভা আসনটি নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছিল। ফলতার যেসব ভোটকেন্দ্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, আমরা সেই সব প্রভাবিত কেন্দ্রে অবিলম্বে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।"

ফলতার ঘটনায়ফলতা বিরোধী দলনেতা এবং ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "আমরাও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি এবং যা করা প্রয়োজন, তা করব। নির্বাচন কমিশনও বিষয়টি নজরে নিয়েছে। যদি এভাবেই চলতে থাকে, তবে যা করণীয়, তা করা হবে। আমি প্রার্থীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করব। ভূপেন্দ্র যাদবজি সকাল ৯টায় আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি তাঁকে পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিলাম। ঠিক কয়েক মিনিট আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আমার নেতা অমিত শাহজি—আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি তাঁকে ফলতার ঘটনাটি সম্পর্কে জানিয়েছি। এটি তৃণমূলের একটি কৌশল। আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছি। এখনও পর্যন্ত বড় কোনও অঘটন ঘটেনি। ৩৫ শতাংশ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আরও অনেক কিছুই দেখার বাকি আছে।"