বর্ষশেষের রাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা  একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু বালি খাদানে ভাঙচুর, আগুন অগ্নিগর্ভ বর্ধমানের গলসি

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটির বাড়িতে ঢুকে পড়ল বালিবোঝাই লরি। ঘুমন্ত অবস্থায় লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল শিশু-সহ একই পরিবারের পাঁচজনের। বর্ষশেষের রাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে। ঘটনার পর বালি খাদানের বেশ কয়েকটি মেশিন ও অফিসে আগুন লাগিয়ে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশও।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

গলসির শিকারপুরে দামোদর নদের বাঁধের কাছেই কাঁচাবাড়িতে থাকত একটি পরিবার। মঙ্গলবার রাতে যখন পরিবারের সকলেই ঘুমে আছন্ন, তখনই ঘটল দুর্ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাত দেড়টা বালিবোঝাই একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা ওই মাটির বাড়িতে ঢুকে পড়ে। লরির তলায় চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শিশু-সহ পাঁচজনের। গুরুতর জখম হন আরও একজন। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা, বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন আশেপাশে লোকজন। বালি সরিয়ে ছয়জনকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। হাসপাতালে বাপি মণ্ডল, তাঁর স্ত্রী দোলন, মেয়ে নন্দিনী, ছেলে আবির ও শাশুড়ি সুচিত্রাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালে ভর্তি গুরুতর জখম এক যুবক। এদিকে এই ঘটনারই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। স্থানীয় একটি বালি খাদানে গিয়ে বেশ কয়েকটি মেশিন আগুন লাগিয়ে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় ট্রাক্টর, ডাম্পার, বাইক, এমনকী বালি খাদানের অফিস ঘরটিও। ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশ। ক্ষতিপূরণের দাবিতে মৃতদেহ উদ্ধারেও বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দুর্ঘটনাগ্রস্থ গাড়ির চালক মদ্যপ ছিলেন। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: চুরি কবি বিনয় মজুমদারের সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার, শুরু তদন্ত

বর্ষবরণের রাতে দুর্ঘটনা ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরেও। গোয়ালপোখরের কানকি এলাকায় জাতীয় সড়কে গাড়ি ও লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ইসলামপুর থানার এএসআই মহম্মদ সফিকুল ও একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। মঙ্গলবার রাতে ইসলামপুর থেকে রায়গঞ্জে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তাঁরা। নিহত সিভিক ভলান্টিয়ারই গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।