সাপ বাঁচানোর আড়ালে চলছে বিষের বেআইনি কারবার ঝাড়খণ্ডের এক যুবকের বিরুদ্ধে গ্রপ্তারি পরোয়ানা জারি বনদপ্তরের মোবারক আনসারি নামে ওই যুবক পেশায় মোটর মেকানিক তাঁকে 'মোবারক স্নেক সেভার' নামে চেনেন সকলেই

বিষধর হোক কিংবা নির্বিষ, চোখের নিমেষে সাপ ধরে ফেলতে পারেন। খবর পেলেই সটান হাজির হয়ে যান গৃহস্থের বাড়িতে। আসানসোল, পুরুলিয়া চত্বরে পেশায় মোটর মেকানিক মোবারক আনসারি 'মোবারক স্নেক সেভার' নামে চেনেন সকলেই। কিন্তু বাঁচানো নয়, বরং সাপ নিয়ে বেআইনি ব্যবসা চালান তিনি। অভিযোগ তেমনই। মোবারকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে পশ্চিম বর্ধমান জেলা বন দপ্তর। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মোবারক আনসারির বাড়ি ঝাড়খণ্ডের পাঞ্চেত এলাকায়। গত শনিবার আসানসোলের রহমতনগরে একটি দোকানে বিষধর সাপ দেখতে পাওয়া যায়। যথারীতি মোবারককে খবর পাঠান দোকান মালিক। সাপটিকে উদ্ধার করে নিয়েও যান তিনি। এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে বনদপ্তর। মোবারকের বিরুদ্ধের জারি করা হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। পশ্চিম বর্ধমান জেলা বনদপ্তরের আধিকারিক জানিয়েছেন, সাপের বিষ নিয়ে বেআইনি কারবারের সঙ্গে যুক্ত ঝাড়খণ্ডের ওই যুবক। এ রাজ্যে তার বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত একাধিক মামলা করেছে ওয়ার্ল্ড লাইফ কন্ট্রোল ব্যুরো। জেলার সমস্ত থানায় সর্তকবার্তা পাঠানো হয়েছে, যে মোবারককে দেখতে পেলেই যেন গ্রেফতার করে বনদপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। 

জানা গিয়েছে, ধরার সাপটিকে ঝাঁপিতে ভরে ঝাড়খণ্ডের পাঞ্চেতে নিজের বাড়িতে নিয়ে চলে যায় মোবারক। বাড়িতে স্নেক রেসকিউ সেন্টার খুলেছে সে। রীতিমতো টিকিট কেটে মোবারকের স্নেক রেসকিউ সেন্টারে সাপ দেখতে যান স্থানীয় মানুষেরা। মোবারক আনসারির অবশ্য দাবি, 'বন্য দপ্তর মিথ্যা অভিযোগ করছে। আমি এক সমাজকর্মী। ধরার পর সাপগুলিকে জঙ্গলে ছেড়ে দিই। সোশ্যাল মিডিয়া লাইভ ভিডিও করে বন্যপ্রাণ বাঁচানোর বার্তাও দিই। ঝাড়খণ্ড সরকার আমাকে বহু পুরস্কার দিয়েছে।' তাঁর আরও বক্তব্য, বনদপ্তরের খবর দিয়েও কোনও লাভ হয়নি। আমাকেই সাপ ধরতে যেতে হয়। বনদপ্তর যদি আমার বিরুদ্ধে সাপের বিষ নিয়ে বেআইনি কারবারের প্রমাণ পায়, তাহলে গ্রেপ্তার করুক। কোনও আপত্তি নেই।'

এদিকে আসানসোলে রহমতনগরের যে দোকান থেকে শনিবার সাপ ধরেছিলেন মোবারক আনসারি, সেই দোকানে মালিকের বক্তব্য, 'ইউটিউব-ফেসবুকে দেখেছি, পাঞ্চেতের মোবারক আনসারি খবর দিলেই সাপ ধরতে চলে আসে। তাই ওঁকেই আমার খবর পাঠিয়েছিলাম। এক ঘণ্টার মধ্যে দোকানে এসে সাপটি ধরেও ফেলে।' ওই সাপটিকে উদ্ধার করার জন্য বনদপ্তর ঝাড়খণ্ডে লোক পাঠিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।