ভাষাদিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই দেখা গেল বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা রাজবংশী সম্প্রদায়ের জনপ্রতিনিধি অনন্ত মহারাজকে। শনিবার তাঁকে বঙ্গবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হল।

বিধানসভা ভোটের আগেই চমক বাংলার রাজনীতিতে। একদিকে, আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন প্রতীক উর রহমান। অন্যদিকে, দেশপ্রিয় পার্কের অমর একুশে উদ্যানে ভাষাদিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই দেখা গেল বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা রাজবংশী সম্প্রদায়ের জনপ্রতিনিধি অনন্ত মহারাজকে। শনিবার তাঁকে বঙ্গবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হল। উত্তরীয় পরিয়ে স্মারক তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চে রাজবংশীর সম্প্রদায়ের অগ্রদূত চিলা রায়ের রচিত কবিতা পাঠ করেন তিনি।

অনন্ত মহারাজ ছাড়াও বঙ্গবিভূষণ সম্মান পেলেন শিবাজী চট্টোপাধ্যায়, নচিকেতা চক্রবর্তী, শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়, গণেশচন্দ্র হালুই, লোপামুদ্রা মিত্র, বাবুল সুপ্রিয়, ইমন চক্রবর্তী এবং শ্রীজাত।

সম্মান পাওয়ার পর বাইরে বেরিয়ে এসে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন অনন্ত মহারাজ। তিনি বলেন, কোচবিহার ও রাজবংশীদের জন্য বিজেপি কিছু করেনি। ২০২৩ সালের অগস্টে বাংলা থেকে বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হন অনন্ত মহারাজ। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই বিজেপির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব সামনে এসেছে। উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে কোচবিহারে অনন্ত মহারাজের বাড়িতেও গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ উত্তরবঙ্গের একটি সরকারি অনুষ্ঠানেও দেখা গিয়েছিল অনন্ত মহারাজকে৷ সম্প্রতি কার্শিয়াংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তারপরই অনন্তকে মমতার পাশে দেখে দলবদলের চর্চা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অনন্ত মহারাজ একই মঞ্চে হাজির হওয়ার পর রাজবংশী এই নেতার শাসক দলের দিকে পা বাড়ানোর জল্পনাই আরও জোরাল হল৷ অনেকেই মনে করছেন, বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন তিনি। তার ফলে উত্তরবঙ্গে ভোটের আগে বড় ধাক্কা খেতে পারে পদ্ম শিবির৷

অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মান পাওয়া নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "আমরা একইসঙ্গে রাজ্যসভায় পাশাপাশি বসি। আমার সতীর্থ যদি পুরস্কৃত হন, সম্মানিত হন, আমার কাছে এর চেয়ে আনন্দের কিছু নেই।" তবে বিজেপির বিরুদ্ধে অনন্ত মহারাজ যা বলেছেন, সেই নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেননি শমীক।