পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরে কিছু দিন আগেই উপনির্বাচনে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের সঙ্গে প্রেস্টিজ ফাইটে জেতার পরেও অবশ্য অস্বস্তিতে শাসক দল। উপনির্বাচনে জেতার জন্য সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদজ্ঞাপনের অনুষ্ঠানেই প্রকাশ্যে ধস্তাধস্তিতে জড়়ালো শাসক দলের দুই গোষ্ঠী। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত জেলা সভাপতি অজিত মাইতিকেও অনুষ্ঠান স্থল ছেড়ে চলে যেকে হয়। 

শনিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নারায়ণগড় থানা এলাকায়। গত বিধানসভা উপনির্বাচন ভোটে রাজ্যের তিনটি আসনেই জিতেছে তৃনমূল। তাই মানুষকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানোর জন্য ও মূল্যবৃদ্ধি, এনআরসির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মিছিলের আয়োজন করা হয়। সেইমতো তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা জড়ো হয় মিছিলের জন্য। কিন্তু মিছিলে দলের দুই গোষ্ঠীর ব্যানার লাগানোকে কেন্দ্র করে অশান্তির সূত্রপাত। 

জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সূর্য অট্ট বনাম নারায়ণগড় ব্লক সভাপতি মিহির চন্দের গোষ্ঠী কোন্দল বহু পুরনো। মিহির চন্দের গোষ্ঠী দাবি করে, ব্লক ভিত্তিক মিছিল হওয়ায় ওই ব্লকের তৃণমূল নেতৃত্বের নামে ব্যানার দিতে হবে মিছিলে। কিন্তু উল্টোদিকে আর এক নেতা সূর্য অট্টের অনুগামীদের দাবি,  মিছিল থানার সামনে থেকে শুরু হওযায় তৃণমূল কংগ্রেসের থানা এরিয়া কমিটির নামে ব্যানার দেওয়া হোক। এই নিয়ে বচসাতেই উত্তেজিত হয়ে পড়ে দুই পক্ষ। দু' পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। মিছিলের সামনের সারিতে থাকা জেলা সভাপতি অজিত মাইতি- সহ ব্লক সভাপতি মিহির চন্দ ও অন্যান্যদের নিয়েও টানাহেঁচড়া শুরু হয়। পরে ঘটনাস্থলে আসে নারায়ণগড় থানার পুলিশ। পরিস্থিতি বেগতিক  বুঝে অন্য জায়গায় কর্মসূচি আছে বলে বেরিয়ে যান অজিত মাইতি ।

নারায়ণগড়ের ব্লক সভাপতি মিহিরবাবুর অবশ্য দাবি, গোটা ঘটনা জেলা সভাপতি অজিত মাইতির সামনে হয়েছে। এই ঘটনায় জেলা সভাপতিও যুক্ত বলে অভিযোগ করেছেন মিহির চন্দ। পাল্টা সূর্য অট্ট অবশ্য 
গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি মেনে নিয়েছেন, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের এই ঘটনা দলের ভাবমূর্তির পক্ষে ভাল নয়। এ বিষয়ে জেলা সভাপতি অজিত মাইতির আর কোনও প্রতিক্রিয়া হয়নি। 

গোটা ঘটনায় স্বভাবতই খুশি বিজেপি। দলের তরফে স্থানীয় নেতা গৌরীশঙ্কর অধিকারী বলেন, 'তৃণমূলে আগাগোড়াই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ভরা। নিচুতলা থেকে উপরতলা পর্যন্ত গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে ভরপুর রয়েছে। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী ও তার নিজের ভাইপো, দুজনের দুই গোষ্ঠী রয়েছে, সেখানে তো নিচুতলার কর্মীদের তা থাকবেই।"