শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন গৌতম দেব। কর্পোরেশনের কমিশনারকে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন গৌতম। মেয়র পদে ইস্তফা দিয়েই ছাড়লেন গাড়ি-নিরাপত্তারক্ষী। গতকালই গৌতম দেবকে তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা কমিটির (সমতল) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করেছে দল।
শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন গৌতম দেব। কর্পোরেশনের কমিশনারকে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন গৌতম। মেয়র পদে ইস্তফা দিয়েই ছাড়লেন গাড়ি-নিরাপত্তারক্ষী। গতকালই গৌতম দেবকে তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা কমিটির (সমতল) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করেছে দল। তারই মধ্যে আচমকা মেয়র পদে তাঁর ইস্তফার কারণ নিয়ে জল্পনা দেখা দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ না করতে পারার কারণেই পদত্যাগ বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। শিলিগুড়ি পুরবোর্ডের মেয়াদ আরও এক বছরেরও বেশি বাকি রয়েছে। তাই অনেক মেয়র পারিষদই ইস্তফা দিতে চাইছিলেন না। তবে গৌতম তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব পান গৌতম দেব। ২০১৬ সালে জেতার পর তাঁকে পর্যটনমন্ত্রী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনে ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি আসন থেকে হেরে যান তিনি। কিন্তু ২০২২ সালের শিলিগুড়ি পুরনিগম নির্বাচনে তৃণমূল বিপুলভাবে জয়ী হলে মেয়র পদে বসেন গৌতম দেব। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গৌতমের নিজের শহর শিলিগুড়ি আসন থেকে তাঁকে প্রার্থী করে দল। যদিও এবারও তাঁকে হারতে হয়।
মঙ্গলবার শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবকে তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং (সমতল) জেলা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। নতুন জেলা সভাপতি হয়েছেন কুন্তল রায়, যিনি একজন প্রাক্তন যুবনেতা এবং শিলিগুড়ি পুরনিগমের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে খারাপ ফলাফল এবং আগামী বছর হতে চলা পুরভোটের আগে শিলিগুড়ি মহকুমায় দলের সাংগঠনিক শক্তি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা হিসেবেই এই ঘোষণাটিকে দেখা হচ্ছে। পুরভোটের পরপরই শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে দার্জিলিং সমতল অঞ্চলের তিনটি বিধানসভা আসন—শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি এবং ফাঁসিদেওয়া—এর কোনওটিতেই তৃণমূল জয়ী হতে পারেনি। শিলিগুড়ি আসনে গৌতম দেব স্বয়ং বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।
তৃণমূলের অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, গৌতম দেব দলের পদাধিকারী হিসেবে নতুন মুখদের নিয়ে আসার জন্য দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। দলের এক নেতা বলেন, “তিনি এও বলেছিলেন যে তিনি আর নির্বাচনী রাজনীতিতে থাকতে চান না। মনে হচ্ছে দল তাঁর কথা রেখেছে এবং কুন্তল রায়কে দায়িত্ব দিয়েছে, পাশাপাশি তাঁকে দলের মধ্যে নতুন কোনও দায়িত্ব অর্পণ করেছে।” গৌতম দেব জানিয়েছেন, তিনি তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবেন। কুন্তল রায় জানিয়েছেন, তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
