করোনা ভাইরাসে এ রাজ্যে এখনও পর্যন্ত কেউ আক্রান্ত হননি। কিন্তু তাতে কি! এই মারণ ভাইরাসের হাত ধরে 'গোমূত্র কালচার' ঢুকে পড়ল বাংলায়! 'গোমূত্র পানে'র আসর বসল কলকাতার উপকণ্ঠে হুগলির ডানকুনিতে, দিল্লি রোডে।  এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপি-র শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শ্যামল বসু।

মুখে মাস্ক পরতে হবে না, বারবার হাতও ধুতে হবে না। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গোমূত্রকেই কার্যত ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করার নিদান দিয়েছে হিন্দু মহাসভার কর্মীরা। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, গত ২১ বছর গোমূত্র পান করছেন তাঁরা। স্নানের সময় ব্যবহার করছেন গোবর। আর তাতেই সুস্থ রয়েছে সকলে। স্রেফ মুখের কথাই নয়, শনিবার দিল্লিতে গোমূত্র পার্টির আয়োজন করেছিলেন হিন্দু মহাসভার প্রধান চক্রপানি মহারাজ। সেই অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে গ্লাস করে গোমূত্র পান করেছিলেন সংগঠনের ২০০ জন সদস্য। এমনকী, কাউন্টার থেকে গোমূত্র বিলির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আর এবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল বাংলাতেও। 

আরও পড়ুন: করোনা আতঙ্কে বন্ধ বাজেট অধিবেশন, নবান্নে বিলি স্য়ানিটাইজার

সোমবার সকালে 'গোমূত্র পার্টি' চলল হুগলির ডানকুনির দিল্লি রোডে।  রীতিমতো লাইন দিয়ে দোকান থেকে গোমূত্র কিনলেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার প্রকাশ্যে গ্লাস করে পানও করলেন। বিশ্বে জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক। তুলনামূলকভাবে রোগের প্রকোপ অনেকটাই কম ভারতে। কারণ, এদেশে যে গরু ও গোমূত্র আছে! তেমনই দাবি করেছেন গোমূত্র বিক্রেতারা। তাঁদের বক্তব্য, গোমূত্র পান করলেই নাকি করোনা ভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা যাবে! 

আরও পড়ুন: করোনা আতঙ্কের জের, ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্য়ে সব স্কুলে ছুটি

এদিকে করোনা ভাইরাস থেকে গোমূত্র পানের প্রবণতায় বিপদ আরও  বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।  ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের চুচূড়া শাখার সভাপতি ইন্দ্রনীল চৌধুরীর বক্তব্য, মল-মূত্রের সঙ্গে প্রাণীদের শরীরের বর্জ্যপদার্থ মিশে থাকে। গোমূত্র পান করার বিষপানের মতোই ক্ষতিকর। এতে হার্ট ও কিডনির মারাত্বক ক্ষতি হতে পারে।  কিন্তু যাঁরা গোমূত্র কিনছেন বা পান করছেন, তাঁদের সেকথা বোঝাবে কে!