Gyanesh Kumar: এসআইআর বিতর্কে ক্রমেই বাড়ছে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের উপর ক্ষোভ। এবার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে রাস্তায় নামলেন বাঁকুড়া জেলার কংগ্রেস কর্মীরা। শুধু বাঁকুড়া নয়। জেলায় জেলায় চলছে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে আন্দোলন। বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।
Gyanesh Kumar: SIR-কে ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বাঁকুড়ায় প্রতিবাদে সরব হল কংগ্রেস। গণতন্ত্র রক্ষা এবং নাগরিকের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করার দাবিকে সামনে রেখে বিক্ষোভ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়।
‘গণতন্ত্র বাঁচাও, ভোটাধিকার রক্ষা করো’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পথে নামেন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকেরা। তাঁদের হাতে ছিল বিভিন্ন দাবি ও প্রতিবাদ-সংবলিত প্ল্যাকার্ড। বিক্ষোভ থেকে জোরালোভাবে ওঠে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি। পাশাপাশি SIR-পরবর্তী সমস্ত নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন করার দাবিও তোলেন আন্দোলনকারীরা।
SIR বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির একাংশ একাধিক প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের অধিকার যাতে কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়, সেই দাবিই সামনে আনছে বিরোধীরা।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে SIR-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। কমিশনের দাবি, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি কমিশনের সদস্যদের সম্মতির ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। ফলে SIR এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
এই আবহে বাঁকুড়ার রাজপথে কংগ্রেসের প্রতিবাদ কর্মসূচি নতুন করে সামনে আনল ভোটাধিকার, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থার প্রশ্ন। প্রতিবাদকারীদের দাবি, নির্বাচনী ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের আস্থা অটুট রাখতে তাঁদের উত্থাপিত প্রশ্নগুলির যথাযথ জবাব দিতে হবে এবং ভোটাধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রসঙ্গত, একদিকে রাহুল গান্ধী অন্যদিকে বিজেপির প্রায় এক ডজন মুখ্যমন্ত্রী। এসআইআর ও মুখ্যনির্বাচন কমিশনার CEC জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক যুদ্ধ কুরুক্ষেত্রের আকার নিয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধী অভিযোগের মোকাবিলা করতে রবিবার থেকেই বিজেপি তাদের দখল করা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সাংবাদিক বৈঠকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সেই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও রয়েছেন।
বিজেপির বিবৃতি
একটি বিবৃতি জারি করে বিজেপি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীরা রাহুল গান্ধী ও বিরোধী ইন্ডিয়া ব্লকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীনভাবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নত তোলার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বদনাম করার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ করছেন। বিজেপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যেসব রাজ্যে বিজেপি বা এনডিএ জোটের সরকার নেই সেখানে বিজেপি সভাপতি ও দলের নেতারাই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন এই ইস্যুতে।
কংগ্রেসের অবস্থান
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে সামনের সারিতে রয়েছেন। দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট প্রকাশের পরই তিনি সাংবাদিক বৈঠক করেছেন। সেখান থেকেই জ্ঞানেশ কুমার ও বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। নিশানা করেছেন অমিত শাহকেও। সম্প্রতি একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টও করেছেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, 'সমুদ্র যখন উত্তাল থাকে তখন তাতে সাঁতার কাটতে আমার ভালো লাগে। এটি আপনাকে শেখায় যে উত্তাল পরিস্থিতিও এক ধরনের শান্ত অবস্থা।' রাহুল গান্ধী জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোট চুরি ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ তুলেছেন। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


