শাজাহান আলি, পশ্চিম মেদিনীপুর: মানুষের পাশে থাকতে হবে প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের। বার বার এই বার্তাটাই দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের স্বার্থক রূপায়ণই দেখা গেল মেদিনীপুর শহর। 

প্রতি সোমবার সাধারণ মানুষের অভাব, অভিযোগ শোনার জন্য জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মতো সোমবার দিন সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ শোনার জন্য সেখানে হাজির ছিলেন জেলাশাসক রেশমি কমল। জেলাশাসকের কাছে নানা ধরনের অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন বহু মানুষ। আর তাঁদের মধ্যেই ছিলেন আশি বছরের বৃদ্ধা নির্মলা হাজরা। 

আরও পড়ুন- তৃণমূলের হয়ে কাজ করছেন মুকুল, দলবদল নিয়ে দাবি অভিষেকের, দেখুন ভিডিও

কেশপুর থানার অন্তর্গত জাওড়া গ্রামের বাসিন্দা নির্মলা দেবীর অভিযোগ, তাঁর ছেলেমেয়েরা কেউই তাঁকে দেখেন না। পেট চালাতে তাই মেদিনীপুর শহরে এসে মুড়ি বিক্রি করেন তিনি৷ কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোজ দীর্ঘ পথ পেরিয়ে মেদিনীপুর শহরে মুড়ি বিক্রি করাও তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সেই কারণেই বার্ধক্যভাতার আবেদন নিয়ে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নির্মলাদেবী। 

আরও পড়ুন- সব্যসাচীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস নেই মমতার, সরাসরি চ্যালেঞ্জ মুকুলের

বৃদ্ধার সমস্যা মন দিয়ে শোনেন জেলাশাসক রেশমি কমল। সেখানে তখন অতিরিক্ত জেলাশাসক- সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষকর্তারাও উপস্থিত। বৃদ্ধার কথা শুনেই সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বার্ধক্যভাতা চালু করার নির্দেশ দেন জেলাশাসক। সাত দিনের মধ্যে বার্ধক্যভাতা চালু হবে বলেও বৃদ্ধাকে আশ্বস্ত করেন তিনি। শুধু তাই নয়, বৃদ্ধার অসহায়তার কথা শুনে তাঁর হাতে বাড়ি ফেরার গাড়ি ভাড়া এবং খাওয়াদাওয়া বাবদ ২৪০ টাকা তুলে দেন জেলাশাসক। যা হাতে পেয়ে রীতিমতো আপ্লুত ওই বৃদ্ধা। 

নির্মলাদেবী বলেন, 'সিপিএমের আমলে তাদের নেতাদের অনেক করে বলেছি বার্ধক্যভাতার জন্য, তৃণমূলের সময়েও অনেককেই অনুরোধ করেছি। কিন্তু কেউই সাহায্য করেনি।' এমন অভিজ্ঞতা থাকায় কার্যত শেষবার চেষ্টা করে দেখার জন্য জেলাশাসকের কাছে এসেছিলেন তিনি। ওই বৃদ্ধা জানান, মুড়ি কিনতে এসে এক ক্রেতাই তাঁকে জন অভিযোগ কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

উচ্চপদস্থ আমলার মানবিক ব্যবহারের খুশি নির্মলাদেবী বাড়ি ফেরার সময় হাসিমুখে বলেন, 'ঈশ্বর ওনাকে ভালো রাখুন ৷ এখানে এসেছিলাম বলেই এই সাহায্য পেলাম৷' আর জেলাশাসক রেশমি কমল বলছেন, 'উনি খুবই দরিদ্র, কষ্ট করে এখানে এসেছেন৷ ওনার ভাতাল দ্রুত চালু করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ সেই সঙ্গে যাতে বাড়ি ফিরতে পারেন, তার জন্য কিছু টাকাও দেওয়া হয়েছে৷