পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার তাদের প্রথম সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি' (AJUP)-এর প্রধান ও বিধায়ক হুমায়ুন কবির বকরি ইদে কুরবানি নিয়ে রাজ্য সরকারকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। শুধু কবিরই নন, রঘুনাথগঞ্জের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক আখরুজ্জামানও এই বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার তাদের প্রথম সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি' (AJUP)-এর প্রধান ও বিধায়ক হুমায়ুন কবির বকরি ইদে কুরবানি নিয়ে রাজ্য সরকারকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। শুধু কবিরই নন, রঘুনাথগঞ্জের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক আখরুজ্জামানও এই বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। রাজ্য সরকার যখন গোহত্যা নিষিদ্ধ করে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে—যেখানে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না হলে গোহত্যা করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে—তখন হুমায়ুন কবির জোর দিয়ে বলেছেন যে কোনও আপত্তি বা বিধিনিষেধ যাই থাকুক না কেন, কুরবানি অব্যাহত থাকবে। তবে, বিজেপি নেতা এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাণী সম্পদ বিকাশ মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেছেন যে, গোহত্যা সংক্রান্ত সরকারের নিয়মাবলিকে কুরবানি প্রথার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা বা যুক্ত করা উচিত নয়।

'দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া'-র প্রতিবেদন অনুযায়ী দিলীপ বলেছেন, "গোহত্যা সংক্রান্ত নিয়মাবলির সঙ্গে ইদ বা কুরবানির মতো ধর্মীয় প্রথাকে যুক্ত করার কোনও ভিত্তি নেই। যদি কোনও প্রথা বা রীতিনীতি থেকে থাকে। তবে তা অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন মেনে পালন করতে হবে।"
ইদের আগে গোহত্যায় বিধিনিষেধ আরোপের জেরে যখন কবির ও আখরুজ্জামান বিজেপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, ঠিক তখনই অন্যান্য প্রবীণ মুসলিম নেতারা সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা এই বছর গরু কেনা এবং কুরবানি দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।
ভারতে আগামী ২৮ মে বকরি ইদ। বুধবার হুমায়ুন কবির বলেন, "কুরবানির এই প্রথা ১৪০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্য। তা কোনও আপত্তি বা সরকারি নির্দেশিকা নির্বিশেষে অব্যাহত থাকবে। এটি এমন একটি ঐতিহ্য যা ১৪০০ বছর ধরে চলে আসছে এবং যতদিন এই পৃথিবী টিকে থাকবে, ততদিন তা অব্যাহত থাকবে।" কবির আরও জোর দিয়ে বলেন যে, সরকার তাদের সুবিধামতো গরুর মাংস ভক্ষণ বা ভোগের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার রাখলেও, হাজার হাজার বছরের পুরনো একটি ধর্মীয় প্রথায় তাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। তিনি বলেন, "সরকার এমন নিয়ম করতে পারে যেখানে মুসলমানদের গরুর মাংস খেতে নিষেধ করা হবে। কিন্তু ধর্মীয় কুরবানি প্রথা অব্যাহত থাকবে। আমরা কোনও আপত্তিই গ্রাহ্য করব না।"
কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান
গো হত্যা নিয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তির বিরোধিতা করা একমাত্র ব্যক্তি কবির নন। তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামানও কলকাতা হাইকোর্টে একটি আবেদন দায়ের করে যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এই বিধিনিষেধগুলো বকরি ইদের সঙ্গে সম্পর্কিত ধর্মীয় রীতিনীতি পালনে অন্তরায় সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, "কুরবানি হল ইসলামের একটি ধর্মীয় প্রথা। এই সময়ে, মানুষ যে গবাদি পশুগুলোকে—তা গরু হোক বা মোষ—নিজে লালন-পালন করে বড় করে তোলে, সেগুলোকে পরম করুণাময় আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ বা কুরবানি করা হয়।"


