আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র প্রধান হুমায়ুন কবীর বিজেপির সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভোটে জেতার পর তারা বিরোধী আসনেই বসবেন। এর পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে 'মিথ্যাবাদী' বলে তীব্র আক্রমণ করেছেন তিনি।
আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র প্রধান হুমায়ুন কবীর শুক্রবার বিজেপির সঙ্গে জোটের সব সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফলের পর তার দল বিরোধী আসনেই বসবে। ANI-কে হুমায়ুন বলেন, "বিজেপির সঙ্গে জোটের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। শুভেন্দু অধিকারী যেহেতু দুটো আসনেই জিতেছেন, তাই ওঁকে একটা আসন ছাড়তে হবে। সেই আসনে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উপনির্বাচন হওয়া উচিত... আমরা বিরোধী আসনেই বসব। জোটের দরকার কী? ওরা তো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই জিতেছে... মোদীজি যেমন বলেন, 'সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস', সেই মতো কাজ হলে আমার কোনও সমস্যা নেই।"

মমতাকে আক্রমণ হুমায়ুনের
সম্প্রতি সমাজবাদী পার্টির (SP) প্রধান অখিলেশ যাদব এবং তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠক নিয়েও তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "দু'মাস ধরে যখন প্রচার চলছিল, তখন অখিলেশ যাদব কোথায় ছিলেন? তখন তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এসে সমর্থন জানানোর দরকার ছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় তো রোজ সকালে রাহুল গান্ধীর বাড়িতে চা খেতে যান। তাহলে রাহুল গান্ধী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিলেন কেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন মিথ্যাবাদী..." পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা এবং সরকার গঠনের প্রস্তুতির মধ্যে তার এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে।
মমতা-অখিলেশ বৈঠক
এর আগে অখিলেশ যাদব কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি এবং ভোটে অনিয়ম নিয়ে আলোচনা হয়। অখিলেশ নির্বাচনের সময় বিজেপির বিরুদ্ধে "বহুস্তরীয় মাফিয়াগিরি"-র অভিযোগ তোলেন এবং পোলিং স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানান। এদিকে, শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। এর ফলে তিনিই হতে চলেছেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী।
CM শুভেন্দু
কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে কলকাতায় দলের বৈঠকে যোগ দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই ঘোষণা করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর দিনেই শুভেন্দু শপথ নিতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। দলের নেতা নিশীথ প্রামাণিকও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীকে সমর্থন করে বলেছেন, তার কোনও "বিকল্প নেই"। তিনি আরও বলেন, অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত সুরক্ষা এখন অন্যতম প্রধান কাজ হবে। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও মমতাকে পরাজিত করা শুভেন্দু অধিকারী সরকার গঠনের আলোচনার আগে নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গেও দেখা করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসন জিতেছে। অন্যদিকে, ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন।


