Anubrata Vs BJP: বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, বিজেপি যদি ২০০-র বেশি আসন পায় তাহলে তিনি মাথার অর্ধেক চুল ও গোঁফ কামিয়ে গোটা বোলপুর ঘুরবেন। ভোট মিটতেই 'লাপাতা'অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে খিল্লি। 

তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের দোর্দণ্ড প্রতাপ নেতা! তাঁর নামে বীরভূলে বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খায়! এমনই ছিল তাঁর মিথ। কিন্তু তৃণমূলের জমানা শেষ হতে না হতেই সেই মিথ ভেঙে চুরমার। এখন তিনি 'খিল্লি'র পাত্র হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাঁকে নিয়ে চলছে কটাক্ষ। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের স্নেহের 'কেষ্টা'।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ভোটের আগে অনুব্রত নিদান

বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, বিজেপি যদি ২০০-র বেশি আসন পায় তাহলে তিনি মাথার অর্ধেক চুল ও গোঁফ কামিয়ে গোটা বোলপুর ঘুরবেন। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিজেপি ২০০-র বেশি আসন নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এলেও এরপর আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি অনুব্রত মণ্ডলকে। কোথায় অনুব্রত মণ্ডল? কী করছেন তিনি? সব প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে বীরভূম জেলা জুড়ে।

অনুব্রতকে নিয়ে মজা!

এই পরিস্থিতির মধ্যেই বোলপুর স্টেশন এলাকায় এক অভিনব প্রতিবাদ ও কৌতুকমিশ্রিত প্রচার নজরে পড়েছে। স্টেশনের এক টোটো চালক সুকেশ চক্রবর্তী অনুব্রত মণ্ডলের সেই পুরনো মন্তব্যের ছবি ও বক্তব্য পোস্টার আকারে ছাপিয়ে নিজের টোটোতে লাগিয়ে শহর ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সুকেশ চক্রবর্তীর দাবি, “সাংবাদিকদের সামনে উনি কথা দিয়েছিলেন। মানুষ এখন সেই কথার বাস্তব রূপ দেখতে চাইছে। তাই আমি এই উদ্যোগ নিয়েছি।” ঘটনাটি ঘিরে বোলপুর এলাকায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা। কেউ এটিকে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ারই বহিঃপ্রকাশ এই টোটো প্রচার।

একটা সময় অনুব্রত মণ্ডলের হুমকিতে কাঁপতো গোটা জেলা। ভোটের আগে পরে সন্ত্রাসের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক বার উঠেছে। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস সরকার কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। আর ভোটের আগে অনুব্রতর বিখ্যাত উক্তি , 'চড়াম চড়াম', 'গুড় বাতাসা' । যা নিয়ে রীতিমত চর্চা চলত। তবে অনুব্রত মণ্ডল তিহার থেকে ফেরার পরই কিছুটা অন্য়রকম হয়ে গেছেন বলেও তাঁর ঘনিষ্ঠরাই জানিয়েছেন। বীরভূমে তৃণমূলের খারাপ ফলের জন্যও তাঁর মূল প্রতিপক্ষ কাজল শেখ অনুব্রতকেই দায়ী করেছিলেন। এবার অনুব্রত গড় হিসেবে পরিচিত বীরভূমেই তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টার পড়ল।