আশিষ মণ্ডল, বীরভূম: রীতিমাফিক শেষকৃত্য নয়, গ্রামের মাটিতে চিরঘুমে শায়িত থাকবেন লাদাখের শহিদ রাজেশ ওঁরাও। শহিদ বেদি তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। শুক্রবার সন্ধ্যা নিহত জওয়ানের দেহ পৌঁছবে বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার বেলেগড়িয়া গ্রামে। 

আরও পড়ুন: কিম জং উন 'হয়ে গেলেন' চিনের প্রধানমন্ত্রী, বাংলার বিজেপি কর্মীর মন্তব্য ভাইরাল নেট দুনিয়ায়

বোনের বিয়ের কথা চলছিল। লাদাখ থেকে ফিরলে তিনি নিজেও হয়তো সাতপাঁকে বাধা পড়তেন। লাদাখে চিনা বাহিনীর হামলা শেষ হয়ে গেল সবকিছু। গালওয়ান উপত্যকায় শহিদ হলেন রাজেশ ওঁরাও। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু খবর আসতে শোকের ছায়া নামে মহম্মদবাজারে বেলেগড়িয়া গ্রামে। বৃহস্পতিবার বিকেলে কফিনবন্দি দেহ আসার কথা ছিল, তাই অরন্ধন পালন করেন গ্রামবাসীরা। স্থানীয় একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে খাওয়া-দাওয়া করেন সকলে। শেষপর্যন্ত সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার বিকেলের শহিদের দেহ পৌঁছে পানাগড়ে, বায়ুসেনার ঘাঁটিতে। গ্রামে দেহ আনা হবে শুক্রবার সকালে।  

আরও পড়ুন: বাদুড়িয়ায় লস্কর জঙ্গি তানিয়ার বাড়িতে তল্লাশি এনআইএ-র, উদ্ধার বই ও ডায়েরি

এদিকে ততক্ষণে শহিদকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেছেন বহু মানুষ। হাতে হাতে উড়ছে জাতীয় পতাকা। গোটা গ্রাম ঘিরে ফেলা হয়েছে বাঁশের ব্যারিকেডে। গ্রামে ও গ্রামে ঢোকার রাস্তায় মোতায়েন প্রচুর পুলিশ। এদিন সকালে নিহতের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে বেলেগড়িয়া গ্রামে যান কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, হাঁসনের কংগ্রেস বিধায়ক মিল্টন রশিদ, সাঁইথিয়ার বিধায়ক নীলাবতি সাহা। জেঠু গোপীনাথ ওঁরাও বলেন, 'বাড়ির ছেলে গ্রামেই থাক। শেষকৃত্য না করে দেহ গ্রামে শায়িত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সিদ্ধান্তে সকলেরই মত আছে।' এমনকী, শহিদ বেদি তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। শুক্রবার রাজেশ ওঁরা-এর দেহ নিয়ে পানাগড় থেকে বিজেপি দুই সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় ও সৌমিত্র খাঁ  মহম্মদবাজারে আসবেন বলে জানা গিয়েছে।