পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF) এবং বামফ্রন্টের আসন রফা চূড়ান্ত। বিধায়ক ও ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী জানান, বামেদের সঙ্গে জোট করে ৩৩টি আসনে লড়বে তাঁদের দল। 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF) বিধায়ক পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী শুক্রবার একটি বড় ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন বামেদের সঙ্গে আসন রফা চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি জানান, বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট করে তাঁদের দল ৩৩টি আসনে প্রার্থী দেবে। এর মধ্যে ২৯টি আসনের রফা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

৩৩টি আসনে লড়বে ISF

আসন রফা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে সিদ্দিকী বলেন, রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৩৩টিতে লড়বে ISF। তিনি বলেন, "এখন পর্যন্ত আমরা ৩৩টি আসন পেয়েছি এবং বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়ছি। ২৯টি আসন চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে... আমরা স্পষ্ট করে দিয়েছি যে চারটি আসন আমরা ছাড়তে পারিনি... ২৯৪টির মধ্যে আমরা ৩৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব...।"

গত বিধানসভাতেও বামেদের সঙ্গে জোট বাঁধে লড়াই করেছিল আইএসএফ। বামেদের সহযোগিতায় ভাঙড়ে জিতে ছিলেন দলের অন্যতম মুখ নওসাদ সিদ্দিকী। তবে বামেদের আসন খরা কাটেনি। যদিও লোকসভা নির্বাচনে আসন রফা হয়নি। এবার বিধানসভা নির্বাচনে আবারও জোট বাঁধব বাম-আইএসএফ।

তৃণমূলের ইস্তেহার প্রকাশ

এর আগে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের ইস্তেহার প্রকাশ করেন। এই ইস্তেহারের নাম দেওয়া হয়েছে "১০ প্রতিজ্ঞা"।

ইস্তেহার প্রকাশের অনুষ্ঠানে তীব্র রাজনৈতিক তরজা দেখা যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ভারতীয় জনতা পার্টিকে (BJP) নিশানা করেন। অন্যদিকে, বিরোধীরা এই ইস্তেহারকে "অবাস্তব" বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

মমতা অভিযোগ করেন, সীমান্ত এলাকা থেকে কিছু শক্তি টাকা ও অস্ত্র ঢুকিয়ে রাজ্যে অশান্তি ও দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে ঘুরপথে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির চক্রান্ত চলছে। তিনি বাংলার মানুষকে রাজ্যের ঐক্য রক্ষা করার এবং শান্তি ও গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক সমস্ত প্রচেষ্টা প্রতিহত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, "বাংলার মানুষের কাছে আমার আবেদন: ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকুন। ভয় পাবেন না, কোনো ঘুষ বা প্রলোভনে পা দেবেন না। সীমান্তের ওপার থেকে কিছু শক্তি আমাদের রাজ্যে টাকা, অস্ত্র এনে দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছে। তাদের লক্ষ্য বাংলাকে অস্থিতিশীল করে ঘুরপথে রাষ্ট্রপতি শাসনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ কায়েম করা। আমরা উন্নয়ন ও অগ্রগতির সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছি। এখন বাংলার ঐক্য রক্ষা করা এবং একে দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করা আপনাদের কর্তব্য। একসঙ্গে থাকুন, শক্তিশালী থাকুন এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ সরকার যাতে বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করুন।" (ANI)