উত্তর ২৪ পরগনা জেলার জগদ্দলে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর। হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত ১৫ ব্যক্তির বাড়িতে সোমবার সকালে তল্লাশি চালানো হয়। ধৃতদের নাম কৌশিক দাস (২৭), সিকান্দার প্রসাদ (৩৯), গোপাল রাউত (বয়স জানা যায়নি) এবং শ্যামদেব সাউ (৫৫)।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার জগদ্দলে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর। হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত ১৫ ব্যক্তির বাড়িতে সোমবার সকালে তল্লাশি চালানো হয়। তারপরেই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের চার কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম কৌশিক দাস (২৭), সিকান্দার প্রসাদ (৩৯), গোপাল রাউত (বয়স জানা যায়নি) এবং শ্যামদেব সাউ (৫৫)। সূত্র জানায়, ধৃতদের মধ্য়ে একজনকে খাটের তলা থেকে ধরা হয়েছে। পুলিশের তল্লাশি অভিযানের সময় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে বাকি অভিযুক্তরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দ্বিতীয় দফা ভোটের দু’দিন আগে রবিবার রাতে রণক্ষেত্রের আকার নেয় উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল। চলে গুলি। জখম হয়েছেন জগদ্দলের বিজেপি নেতা পবন সিংয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সিআইএসএফ জওয়ান। আটচালা বাগানে তৃণমূল এবং বিজেপির সংঘর্ষ হয়। সে নিয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার এবং নোয়াপাড়ার প্রার্থী অর্জুন সিংহের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। আবার উল্টোদিকে তূণমূলের পক্ষ থেকে ভাটপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী অমিত গুপ্ত অভিযোগ জানিয়েছেন যে তাঁদের একটি কর্মীকে মারধর করা হয়েছিল। সেই সময় অভিযোগ জানাতে এলে অর্জুন সিংহ ও তাঁর অনুগামীরা তাঁদের উপর চড়াও হয়। এরপরই দু'পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইটবৃষ্টি শুরু হয়ে যায়।

এরপরই গণ্ডগোল অন্য মাত্রা নেয় যখন অর্জুন সিংয়ের ছেলে পবন সিংয়ের বাড়ির সামনে বোমা মারে দুষ্কৃতীরা, গুলিও চালায় বলে অভিযোগ। জগদ্দল থানার পাশেই বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংয়ের ছেলে পবন সিংয়ের বাড়ি। অভিযোগ, গোলমালের সময় তৃণমূল আশ্রিত একদল দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়িতে ঢুকে পড়ে। পবনের দাবি, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা-গুলি ছুড়তে থাকে। দুষ্কৃতীদের গুলিতে যোগেশ শর্মা নামে তাঁর দেহরক্ষী সিআইএসএফের এক জওয়ান জখম হয়েছেন। তাঁর পায়ে গুলি লেগেছে। কলকাতার এক হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে।

বর্তমানে এলাকায় বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। নির্বাচনের আগে জগদ্দলে বারবার উত্তেজনার ছবি সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের। কারণ, সোমবার শেষ প্রচারের দিনে জগদ্দলে দলীয় প্রার্থী রাজেশ কুমারের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্বাচনী জনসভা করবেন। ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজির থেকে রিপোর্ট চেয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।

সোমবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর সভা বানচাল করতে চেয়েছিল এবং জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার ও পবন সিংকে মারতে আগে থেকেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।' তাঁর আরও দাবি, 'পবন সিং এই ঘটনায় কোনওভাবেই জড়িত ছিলেন না। তাও তাঁর বাড়িতে ইট ছোঁড়া হয়, পবনের নিরাপত্তারক্ষীও গুলিতে জখম হয়েছে। এসব হঠাৎ করে নয়, আগে থেকেই ঠিক করা ছিল।'