Extramarital Affair: সম্প্রতি বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে স্বামী বা স্ত্রীকে খুন করা হয়েছে। এবার দাম্পত্য কলহের জেরে জলপাইগুড়িতে এক মারাত্মক ঘটনা ঘটে গেল। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
KNOW
West Bengal News: বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে দাম্পত্য কলহের জের, স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী এক ব্যক্তি। জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাট ব্লকের দুরামারি-রাঙাতি অঞ্চলে এই ঘটনা ঘটেছে। মা-বাবাকে হারিয়ে অসহায় দম্পতির কিশোর সন্তান। এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে একদিকে যেমন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, তেমনই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বুধবার সন্ধ্যায় প্রথমে উদ্ধার হয় বছর আটত্রিশের গৃহবধূ চুমকি রায়ের রক্তাক্ত মৃতদেহ। বৃহস্পতিবার উদ্ধার হয় তাঁর স্বামী বিমল রায়ের দেহ।
অশান্তির জেরে মারাত্মক ঘটনা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিমল ব্যবসা করতেন। একটি ব্যাটারির দোকান ছিল তাঁর। স্ত্রী চুমকি এবং একমাত্র ছেলে বিরাজকে নিয়ে ছিল তাঁদের ছোট্ট সংসার। তবে দীর্ঘদিন ধরেই দম্পতির মধ্যে অশান্তি চলছিল। অভিযোগ, এক দেওরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন চুমকি। যা নিয়ে সংসারে চরম অশান্তি তৈরি হয়। একাধিকবার গ্রামে সালিশি সভা হয় সমস্যা মেটাতে। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য রতন রায় জানান, বহুবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বেড়েছে। বুধবার সকাল থেকেই তুমুল বচসা শুরু হয় দম্পতির মধ্যে। বিকেলে চুমকি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। স্বামী বিমলও তাঁর পিছু নেন। স্থানীয়দের অনেকেই দু'জনকে মোরাঘাট জঙ্গল সংলগ্ন অঞ্চলে ঝগড়া করতেও দেখেছেন। এরপরই সন্ধ্যে নাগাদ মোরাঘাট বনাঞ্চলের মধুবনি তিন নম্বর সেকশন থেকে চুমকির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে বানারহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। দেহের পাশ থেকেই উদ্ধার হয় ধারালো অস্ত্রও। পুলিশ অনুমান করে, স্ত্রীকে খুন করেছেন বিমলই। যদিও তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এরই মধ্যে জানা যায়, দম্পতির কিশোর সন্তানের কাছে বাবার একটি ভয়েস মেসেজ আসে। সেই মেসেজে বিমল তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করার কথা জানান। পাশাপাশি তিনিও আত্মহত্যা করতে চলেছেন বলে সেই মেসেজে বলা হয়। এরপরই ফোন বন্ধ হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার। সারা জঙ্গলজুড়ে শুরু হয় জোরদার তল্লাশি। বানারহাট পুলিশের পাশাপাশি মরাঘাট রেঞ্জের বনকর্মীরাও তল্লাশিতে নামেন। বৃহস্পতিবার সকালে জঙ্গলের থেকেই একটি গাছ থেকে বিমলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
পরিবারে চরম বিপর্যয়
একদিনের ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় কার্যত ভেঙে পড়েছে দুই পরিবারই। তবে সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় রয়েছে তাঁদের একমাত্র কিশোর সন্তান। মা-বাবার নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। এই হৃদয়বিদারক মুহূর্তে মানবিকতার পরিচয় দেন বানারহাট থানার আইসি সুরজ থাপা। শোকে ভেঙে পড়া বিরাজকে তিনি বুকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন। পুলিশের তরফে গোটা ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে। বানারহাট থানার আইসির পাশাপাশি বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে আসেন জলপাইগুড়ি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) সত্যম বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ধুপগুড়ি মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অনিরুদ্ধ পাল চৌধুরী। আসেন বন দফতরের মোরাঘাট রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার চন্দন ভট্টাচার্য। ক্রাইম সিন কর্ডন করে ফরেনসিক তদন্তের কাজ চলছে। স্ত্রী চুমকিকে খুন করে স্বামী বিমল আত্মঘাতী হয়েছেন, প্রাথমিকভাবে তা মনে হলেও, তদন্তে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না পুলিশ। ঘটনার পিছনে তৃতীয় কোনও পক্ষের উপস্থিতি রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দফায় দফায় জিজ্ঞাসবাদ করা হচ্ছে দুই পরিবারের সদস্যদের। কথা বলা হচ্ছে প্রতিবেশীদের সঙ্গেও। মৃত দুজনের পাশাপাশি দুই পরিবারের অন্যান্যদের ফোন, মেসেজ, ভয়েস চ্যাট সবই পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। মৃতদেহ দু'টি ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং ঘটনার পূর্ণ সত্য সামনে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


