Jhargram Election: ভোটের দিনে অশান্তি এড়াতে ১৬৩ ধারা জারি হলেও ঝাড়গ্রামের জিতুশোল বুথের সামনে হাজির হলো পরিচিত হাতি রামলাল। নজরবন্দি থেকে পালিয়ে সে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। বন দফতরের কড়া নজরদারি সত্ত্বেও কীভাবে সে বুথের কাছে এলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।

Jhargram Election: বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলার সঙ্গে পশ্চিমের ঝাড়গ্রামেও চলছে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ভোটের দিনে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই অপ্রত্যাশিতভাবে বুথের সামনে চলে এলো ঝাড়গ্রামের পরিচিত হাতি রামলাল। খাবারের সন্ধানে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে পথ আটকে দাঁড়িয়ে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আজও 'দুষ্টুমি' করতে পারে রামলাল। তাকে নিয়ে চিন্তা বন দফতরের। ইভিএম-সহ ভোট কর্মীদের রুখতে পারে রামলাল, হানা দিতে পারে বুথেও। তাই নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত রামলালকে বিশেষ নজরবন্দি করছে বন দফতর।

জানা গিয়েছে, ভোটগ্রহণের আগেই বন দফতর রামলালকে নজরবন্দি করে রেখেছিল। কিন্তু সব সতর্কতা ভেঙে সকালে জিতুশোল আংশিক বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের সামনে হাজির হয় সে। হেলেদুলে আসা রামলালকে দেখে মুহূর্তে ভিড় জমে যায় বুথের সামনে। ভোটার থেকে সাধারণ মানুষ, সবার হাতে তখন মোবাইল। রামলালের ছবি ও ভিডিয়ো তুলতে ব্যস্ত সবাই।

ঝাড়গ্রামে বুথে দলমার দামালদের দাপট!

কিন্তু রামলাল নির্বিকার। নিজের মতো ঝাড়গ্রামের এ রাস্তা থেকে ও রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। হোস পাইপ দিয়ে জল ছিটিয়ে সরানোর চেষ্টা হলেও তাতে লাভ হয়নি। কখনও রাস্তায় পড়ে থাকা প্লাস্টিক থেকে খাবারও খুঁজেছে সে।

খবর পেয়ে বন দফতরের আধিকারিকরা এসে রামলালকে সরিয়ে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যান। ভোটের দিনে দুর্ঘটনা এড়াতে ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের ৩০০ জন কর্মী, ২৫টি গাড়ি, এলিফ্যান্ট ট্র্যাকার্স টিম এবং Quick Response Team মোতায়েন ছিল। তারপরেও রামলাল কীভাবে বুথের কাছে এলো, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

প্রসঙ্গত, দু’সপ্তাহ আগে ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে রামলাল ও শ্যামলালের এলাকা দখল নিয়ে লড়াই হয়। তাতে রামলালের ডান পায়ে চোট লাগে। দু’দিন গোবিন্দপুরের একটি ক্যানালের জল-কাদায় বসে কাটায় সে। গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে আলু-আনাজ খেতে দেয়। বন দফতর খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে তাকে সুস্থ করে জঙ্গলে ফেরত পাঠায়। ভোটের গম্ভীর আবহে রামলালের এই আচমকা হাজিরা এখন ঝাড়গ্রামের চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।