ঝাডৃ়গ্রামের সেই ঝালমুড়ি বিক্রেতা—যিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তাঁর দোকানের ঝালমুড়ি বিক্রি করেছিলেন, তিনি এখন পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি ফোন নম্বর থেকে বোমা হামলার ও প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন। মোদীকে ঝালমুড়ি খাওয়ানোর পর থেকেই তারকা হয়ে গিয়েছিলেন ওই ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রম সাউ।

ঝাডৃ়গ্রামের সেই ঝালমুড়ি বিক্রেতা—যিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তাঁর দোকানের ঝালমুড়ি বিক্রি করেছিলেন, তিনি এখন পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি ফোন নম্বর থেকে বোমা হামলার ও প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন। মোদীকে ঝালমুড়ি খাওয়ানোর পর থেকেই তারকা হয়ে গিয়েছিলেন ওই ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রম সাউ। গত মাসে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁর দোকানের ঝালমুড়ি একটি নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। তবে, তাঁর এই আকস্মিক খ্যাতি বিক্রম ও তাঁর পরিবারের জন্য এখন এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বিক্রমের ভাষ্যমতে, গত কয়েক দিন ধরে তিনি পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ক্রমাগত ফোন ও ভিডিও কল পাচ্ছেন। বিক্রম দাবি করেছেন যে, এই কলগুলোর মাধ্যমে তিনি প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এই ঘটনায় বিক্রম সাউ ও তাঁর পরিবার গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিষয়টি ইতিমধ্যেই পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বিদেশি নম্বর থেকে আসা এই হুমকি কলগুলো ওই এলাকায়ও উদ্বেগ ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

সাউয়ের জীবনের সেই 'ভাইরাল মুহূর্তটি' এসেছিল গত ১৯ এপ্রিল, যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি জনসভা থেকে ফেরার পথে রাস্তার ধারে তাঁর ঝালমুড়ির দোকানে থেমেছিলেন এবং বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় এই খাবারটি খেয়েছিলেন। ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই মুহূর্তটি দ্রুতই অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। 'এক্স' (X) প্ল্যাটফর্মে সেই মুহূর্তের একটি ঝলক শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী মোদী লিখেছিলেন, "ব্যস্ততম রবিবার জুড়ে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে চারটি জনসভার মাঝখানে, ঝাড়গ্রামে কিছু সুস্বাদু ঝালমুড়ি খেলাম।" এর সঙ্গে তিনি সেই খাঁটি বাঙালি খাবারটি চেখে দেখার নিজের কিছু ছবিও জুড়ে দিয়েছিলেন।

সাধারণ ঝালমুড়িকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই উন্মাদনা কেবল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দোকানে থামার মাধ্যমেই শেষ হয়ে যায়নি। এটি বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) মধ্যে একটি উত্তপ্ত রাজনৈতিক বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে একটি পূর্বপরিকল্পিত নাটক হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকেনি। বাংলার নির্বাচনের প্রাক্কালে আয়োজিত আরেকটি জনসভায় মমতাকে কটাক্ষ করে মোদী বলেছিলেন যে, তিনি নিজে ঝালমুড়ি খেলেও এর ঝাঁঝ টের পাচ্ছে আসলে তৃণমূল কংগ্রেসই।

বাংলার নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও এই জলখাবারটির জনপ্রিয়তা যেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গী হয়ে তাঁর সদ্যসমাপ্ত পাঁচ দেশ সফরেও পৌঁছে গিয়েছিল। নেদারল্যান্ডসে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তৃতায় বাড়তি উত্তাপ ছড়াতে গিয়ে তিনি আবারও ঝালমুড়ির প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন করেছিলেন, “ঝালমুড়ি কি তবে এখানেও পৌঁছে গেছে?”