বিজেপিতে যোগ দিলেন কামদুনির প্রতিবাদী টুম্পা কয়াল। আজ বিজেপির সদর দফতরে তাঁর হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেন প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্য়ায়। টুম্পা ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। দলীয় সূত্রে খবর, প্রার্থী হতে পারেন টুম্পা কয়াল।
বিজেপিতে যোগ দিলেন কামদুনির প্রতিবাদী টুম্পা কয়াল। আজ বিজেপির সদর দফতরে তাঁর হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেন প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্য়ায়। টুম্পা ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। দলীয় সূত্রে খবর, প্রার্থী হতে পারেন টুম্পা কয়াল। তাঁর দাবি, বাংলায় নারীবিরোধী ও দুর্নীতিবাজ সরকার চলছে। সেই সরকারকে সরানোর লড়াইতেই তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। টুম্পা বলেন, "২০১৩ সাল থেকে বিজেপি সঙ্গে ছিল। হাইকোর্ট থেকে নিরাশ হওয়ার পরে বিজেপি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। বিজেপিতে যোগ দিয়ে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়কে পারব। আমাদের অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। ২০২৪ সালে আমার স্বামীর উপরে হামলা করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই দুর্নীতিবাজ সরকাকে হারানোর জন্য বিজেপিতে আসলাম।"
২০১৩ সালে কামদুনির এক কলেজ গণধর্ষণ কাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছিল রাজ্য। সেই কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ টুম্পা কয়াল, মৌসুমী কয়াল। ২০১৩ সালের ৭ জুন কামদুনির ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা রাজ্য়কে। পাঁচিলঘেরা ফাঁকা জমি থেকে উদ্ধার হয়েছিল এক কলেজ ছাত্রীর মৃতদেহ। গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছিল তাঁকে। দশদিন পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কামদুনিতে যান। সেদিনই আন্দোলনের মুখ হিসেবে উঠে আসেন মৌসুমী ও টুম্পা। মামলায় ব্য়াঙ্কশাল আদালত ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনায়। ২০২৩ সালের ৬ অক্টোবর কামদুনিকাণ্ডে ৩ আসামিরই ফাঁসির সাজা রদ করে কলকাতা হাইকোর্ট। ২ দোষীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় ও ৪ জনকে খালাস করে হাইকোর্ট।
টুম্পা কয়াল ছাড়াও আজ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন প্রবীণ কুমার সিং। যিনি ২৩ বছর ধরে উখড়া আদর্শ হিন্দি হাইস্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি 'ভারত বিদ্যা রত্ন পুরস্কার' (২০১৭), 'জুয়েল অফ ইন্ডিয়া পুরস্কার' (২০১৮), 'মাদার টেরেসা সদ্ভাবনা পুরস্কার' (২০১৮) এবং 'ডঃ এ.পি.জে. আবদুল কালাম শিক্ষা উৎকর্ষ পুরস্কার' (২০১৯)-এর মতো বরেণ্য সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।
বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন আইবি-র অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সহকারী অধিকর্তা এবং পুলিশের প্রাক্তন সহকারী কমিশনার শ্রীমতি সর্বরী ভট্টাচার্য। তিনি 'রাষ্ট্রপতি পুরস্কার', 'বিশিষ্ট সেবার জন্য ভারতীয় পুলিশ পদক' এবং আমেরিকান কনস্যুলেট প্রদত্ত 'জেনারেল ট্রু লেজেন্ড পুরস্কার'-এ ভূষিত হয়েছেন। লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন যে, রাজ্যের সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির একমাত্র সমাধান হল ভারতীয় জনতা পার্টি। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) রাজ্যের মানুষকে উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা পরিষেবা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আর ঠিক এই কারণেই সমাজের শিক্ষিত ও বুদ্ধিজীবী মানুষরা বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।


