যখন লেখাপড়ার বয়স তখন বিবাহ .পরে সেখান থেকেই শিক্ষা লাভ শ্বশুরবাড়ি থেকেই স্কুল শিক্ষকের চাকরি বিনামূল্য়ে সুশিক্ষা দিচ্ছেন বর্ধমানের অনিমা দেবী

এ এক অন্য কাহিনী। যখন শৈশবের খেলাধুলা, লেখাপড়া বয়স তখন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন পূর্ব বর্ধমানের কালনার অনিমা তালুকদার। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তে পড়তেই বিয়ে হয়ে যায় তাঁর। ইরিগেশন দফতরের কর্মী অবনী তালুকদারের সঙ্গে বিয়ে হয় অনিমা দেবীর। এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছোটবেলায় বিয়ে হলেও লেখাপড়া চালিয়ে যান। তবে তাঁর মূলে সবচেয়ে বড় অবদান তার শাশুড়ি মা। নানান রকম বাধা বিপত্তি থাকলেও শাশুড়ি মায়ের জেদেই পড়াশোনা চালিয়ে যান। এরপর তিনি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি পান। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এখন বয়স ৭৫ । শিক্ষকতার জীবন থেকে অবসর নিয়েছেন। এলাকায় শিক্ষা বিস্তার ও ছাত্র ছাত্রীদের সামাজিক মান উন্নয়নের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে চলেছেন এই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা। নিজের বাড়িতেই তৈরি করেছেন কৃষ্ণদেবপুর নগেন সুধা স্মৃতি শিক্ষা আশ্রম। সেখানেই প্রায় ৫০ জন স্কুল পড়ুয়াকে বিনা পয়সায় শিক্ষাদানের পাশাপাশি চলছে ক্যারাটে , আঁকা, খেলায় পারদর্শী করে তোলার শিক্ষা।

এখানকার এক ছাত্রী খোঁ খোঁ খেলায় এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েছে। ইচ্ছা আছে এই আশ্রমকে আরও বড় করে তোলার। নিজের বাড়ি লাগোয়া জমিতে এই আশ্রম গড়ে তুলতে চান। কিন্তু অর্থের অভাবে তা করতে পারছেন না তিনি। চাইছেন সরকারি সাহায্য। পেনশনের টাকা দিয়ে চালাচ্ছেন তার বাড়িতে তৈরি এই আশ্রম। ছেলেও সাহায্য করে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষের কাছেও সাহায্য চেয়ে এই আশ্রমকে বাচিঁয়ে রেখেছেন। 

শুধুমাত্র লেখাপড়া শেখানোই নয়, সেই সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করেন এলাকার মানুষের সাহায্য নিয়ে । তারই এলাকার অনেকেই তার এই কাজে উৎসাহী হয়ে বিনা পারিশ্রমিকে লেখাপড়া শেখান। এই শিক্ষিকার স্বপ্ন, আগামী দিনে নিজের জায়গাতেই এই আশ্রমকে আরও বড় করে গড়ে তোলা।